


সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে দেখা গিয়েছে, তারকেশ্বর কেন্দ্রে তৃণমূলের জয়ে অন্যতম ভূমিকা রাখছে ধনেখালি ব্লকের পাঁচটি পঞ্চায়েত। মূলত এই পাঁচ গ্রাম পঞ্চায়েত বিধানসভা ভোটে বারবার জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে তৃণমূলকে। এবারও জোড়াফুল শিবিরের টার্গেট, এই পাঁচ পঞ্চায়েত এলাকা থেকে যত বেশি সংখ্যক ‘লিড’ নেওয়া। সেই মতো মাঠে নেমে পড়েছেন তৃণমূল কর্মীরা।
তারকেশ্বর পুরসভা এবং ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে তারকেশ্বর বিধানসভা। এর মধ্যে ১০টি পঞ্চায়েত তারকেশ্বর ব্লকের অন্তর্গত। পাঁচটি ধনেখালি ব্লকের অন্তর্ভুক্ত। প্রায় ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ভোটারের মধ্যে ৬৬ হাজার ১০০ ভোটার ধনেখালি ব্লকের গোপীনাথপুর-১ , ২ ও ভান্ডারহাটি ১, ২ এবং পাড়াম্বুয়া সাহাবাজার পঞ্চায়েত এলাকার। তাদের জয়ের জন্য এই পাঁচ পঞ্চায়েত এবারও অগ্রণী ভূমিকা নেবে বলে আশাবাদী তৃণমূল। বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায় এলাকার উন্নয়নে সর্বদা বাসিন্দাদের পাশে থাকেন। কৃষিপ্রধান এই এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল আলু। এবারের ভোটে তাই আলুর দামই হয়ে উঠেছে অন্যতম ইস্যু।
কৃষকরা আলুর পর্যাপ্ত দাম পাননি দাবি করে ভোটবাক্স ভরাতে মরিয়া পদ্ম শিবির। তাদের পক্ষ থেকে প্রচার করা হচ্ছে, আলুর দাম না পাওয়া আসলে রাজ্য সরকারেরই ব্যর্থতা। বিজেপি সরকার এলে চাষিরা তাঁদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন। পালটা তৃণমূলের প্রার্থী রামেন্দু সিংহ রায় ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন কৃষকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতির কথা। মমতা জানিয়েছেন, নতুন সরকার গড়ার পর কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হবে। উপকৃত হবেন সব ধরনের কৃষক।
শুক্রবার গোপিনগর-১ এলাকায় প্রচার করেন তৃণমূল প্রার্থী। গৌতম বেরা নামে ওই এলাকার এক কৃষক বলেন, ‘অত্যাধিক ফলনের জন্য এবার কৃষক আলুর দাম পায়নি। এটাই স্বাভাবিক। বিজেপি ক্ষমতায় এলেও এটা পরিবর্তন করতে পারবে না। শেষে দেখা যাবে, পুঁজিপতিদের হাতে আমাদের চাষের জমি চলে যাচ্ছে। চাষ করার আগেই নীলকর সাহেবদের মতো জমি নিয়ে নেবে পুঁজিপতিরা। দিনমজুর হয়ে থাকতে হবে আমাদের। তাই যারা সবসময় আমাদের পাশে থাকে, ভরসা রাখতে হবে তাদের উপরেই।’ রামেন্দুবাবু বলেন, ‘বাড়ি বাড়ি জল সহ একাধিক প্রকল্পের রাজ্য ও কেন্দ্র যৌথভাবে অর্থ দেয়। কিন্তু কেন্দ্র টাকা না দেওয়ায় যৌথ প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি। বাংলার বাড়ির মতো রাজ্য সরকারের নিজস্ব প্রকল্পগুলি সচল রয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩২ লক্ষ বাড়ি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। তারকেশ্বর বিধানসভার ১৫টি পঞ্চায়েত এলাকায় সমানভাবে কাজ হয়েছে। ৪ মে গোটা রাজ্যের সঙ্গে তারকেশ্বরেও তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।’