নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আলাপের পর ডেট। তা থেকে প্রেম। এরপর হোটেলে গিয়ে ঘনিষ্ঠ হওয়ার প্রস্তাব। সে প্রস্তাবে সারা দেওয়ার পর সোজা থানায় গিয়ে ধর্ষণের মামলা দায়ের প্রেমিকের বিরুদ্ধে। এরপর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য দাবি করতেন মোটা টাকা। সেই টাকা দিলে তবেই মামলা থেকে মুক্তি পেতেন প্রেমিক। একজন নন, এরকম ১৪ প্রেমিককে ফাঁদে ফেলেছেন ওই প্রেমিকা। তিনি পেশায় অভিনেত্রী এবং মডেল। বেশ কয়েকটি বাংলা ধারাবাহিকে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছেন।
দক্ষিণ কলকাতার ওই মডেল অভিনেত্রী এখনও পর্যন্ত প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১৪ প্রেমিককে ফাঁসিয়েছেন। অশ্লীল প্রস্তাব দিয়ে তোলা চেয়েছেন নিজের চিকিৎসকের কাছেও। সেই চিকিৎসকের অভিযোগের পরই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসে। প্রেমের নাটক সাজিয়ে প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে তোলাবাজির অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার ওই অভিনেত্রী। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর নাম রাগেশ্রী গোপ (৩১)। সার্ভে পার্ক থানা এলাকার বাসিন্দা তিনি। শুক্রবার রাতে বাড়ির সামনে থেকে পঞ্চসায়র থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। সূত্রের খবর, বেশ কয়েকটি বাংলা ধারাবাহিকে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছেন এই রাগেশ্রীদেবী। আর বছর পাঁচেক ধরে একাধিক পুরুষকে মিথ্যা ধর্ষণের মামলায় ফাঁসিয়ে টাকা আদায় শুরু করেছেন। প্রায় ১১ লক্ষ টাকা হাতিয়েছেন এভাবে। সে টাকা দিয়ে নামকরা হোটেলে যেতেন, দামি প্রসাধনী ব্যবহার করতেন।
চলতি বছরের প্রথম দিকে আদালতের দ্বারস্থ হন অভিযোগকারী চিকিৎসকের স্ত্রী। তাঁর আর্জি ছিল, স্বামীর এক রোগী তাঁকে বিভিন্ন রকমের অশালীন প্রস্তাব দিয়ে ব্ল্যাকমেল করছেন। ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছেন। এরপর আদালত পঞ্চসায়র থানাকে তদন্তভার দেয়। তদন্তে নেমে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। একাধিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে। তার ভিত্তিতেই অভিযুক্ত তরুণীর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও হুমকি সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়। সেই মামলায় শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয় রাগেশ্রী গোপকে। শনিবার আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় কার্যত হতবাক হয়ে পড়েন তদন্তকারীরা। জানতে পারেন, এখনও পর্যন্ত ১১টি মিথ্যা মামলা শহরের বিভিন্ন থানায় দায়ের করেছেন তিনি। সবকটিই ধর্ষণের মামলা। এছাড়াও বেশ কয়েকটি যৌন হেনস্তার অভিযোগও করেছেন। এই কৌশলে মামলার ভয় দেখাতেন। প্রেমিকদের থেকে টাকা আদায় করতেন। কারও থেকে মাসিক ভিত্তিতেও টাকা নিতেন। কারও থেকে এককালীন টাকা নিতেন। অভিযোগ, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার সহ প্রতিষ্ঠিত কর্মরতদের টার্গেট করে ফাঁসাতেন তিনি। সেই টাকা দিয়ে জিমের সাবস্ক্রিপশন দিতেন। নতুন আইফোন বাজারে এলে কিনতেন।