Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

না ফেরার দেশে ‘আংরেজো কে জমানো কে জেলর’

হাতে কলমে ছবি তৈরির খুঁটিনাটি শিখবেন বলে ভর্তি হয়েছিলেন পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে। সেটা প্রথম ব্যাচ। ১৯৬৫ সালে ঋত্বিক ঘটক পড়ুয়াদের নিয়ে তৈরি করলেন ‘ফিয়ার’।

না ফেরার দেশে ‘আংরেজো কে জমানো কে জেলর’
  • ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:১০
Prefer us on Google

হাতে কলমে ছবি তৈরির খুঁটিনাটি শিখবেন বলে ভর্তি হয়েছিলেন পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে। সেটা প্রথম ব্যাচ। ১৯৬৫ সালে ঋত্বিক ঘটক পড়ুয়াদের নিয়ে তৈরি করলেন ‘ফিয়ার’। মাত্র ১৭ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের শর্টফিল্ম। সেখানে সংলাপহীন এক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ছাত্র হিসেবে ঋত্বিক ঘটকের থেকে যে শিক্ষা তিনি পেয়েছিলেন, তা থেকে গিয়েছিল সারাজীবন। সিনেমার ভাষার সঙ্গে তা মিশিয়ে দিয়েছিলেন অবলীলায়, যা সমৃদ্ধ করেছে ভারতীয় সিনেমাকে। হাসিয়েছেন আসমুদ্রহীমাচলকে। আর দীপাবলির আলোর মাঝেই ম্লান হল সেই হাসি। প্রয়াত অভিনেতা আসরানি।

Advertisement

সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দীপাবলির শুভেচ্ছা জানান সন্ধ্যায়। তারপরই শূন্যতা। শুধু হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নয়, গোটা ভারত। বার্ধক্যজনিত দীর্ঘ রোগভোগের পর ৮৪ বছর বয়সে পাড়ি দিলেন রিল ও রিয়েল দুনিয়ার অন্য পারে। নিছক কমেডিয়ান নন, পুরোদস্তুর অভিনেতা। এবং অত্যন্ত স্বতস্ফূর্ত। পুনের ফিল্ম ইনস্টিউটের প্রথম ব্যাচের সদস্য ছিলেন আসরানি। ‘গুড্ডি’ ছবি থেকে তাঁকে চিনেছে তামাম দুনিয়া। তারপর একে একে ‘বাবুর্চি’, ‘নমক হারাম’, ‘চুপকে চুপকে’। কখনও পরিবারের সঙ্গীতপ্রেমী-খামখেয়ালি ছোট ছেলে, কখনও নায়ক ধর্মেন্দ্রর বন্ধু। সবেতেই সাবলীল। কিন্তু সব ছাপিয়ে মিনিট পনেরোর রোলে নেমে যখন তিনি হাঁক দেন, ‘হাম আংরেজো কে জমানো কে জেলর হ্যায়’... তার আর্টিস্টিক অভিঘাত সবকিছু পিছনে ফেলে। ‘শোলে’ তাই যতটা জয়-বীরু-ঠাকুরের সিনেমা, ততটা আসরানিরও।
জন্ম ১৯৪১ সালে। জয়পুরের এক সিন্ধি পরিবারে। পুরো নাম গোবর্ধন আসরানি। পারিবারিক ব্যবসা থাকলেও তাতে কোনও আগ্রহ ছিল না। কারণ, অঙ্ককে যমের মতো ভয় পেতেন। ম্যাট্রিকুলেশন শেষ করে ভর্তি হন রাজস্থান কলেজে। রাতে ভয়েস ওভার আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করতেন অল ইন্ডিয়া রেডিওতে। ১৯৬২ সালে মুম্বইয়ে আসেন। অভিনয় করার আশায়। ১৯৬৩তে আচমকা দেখা হয় কিশোর সাবু ও হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তাঁদের পরামর্শে ভর্তি হন পুনের ফিল্ম ইনস্টিটিউটে। সেটা ১৯৬৪। ১৯৬৭ সালে ‘হরে কাঁচ কি চুড়িয়া’ ছবিতে অভিনয় করেন বিশ্বজিতের বন্ধুর চরিত্রে। যদিও সেভাবে বলিউডের নজরে পড়েননি। এরপর একদিন ‘গুড্ডি’র জন্য নতুন মুখ খুঁজতে গিয়ে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে আসরানিকে গিয়ে ধরলেন স্বয়ং হৃষীকেশবাবু। আসরানিও তাঁর সামনে হাজির করলেন জুনিয়র এক ছাত্রীকে। সেই ছাত্রী অবশ্য ততদিনে স্বয়ং সত্যজিৎ রায়ের একটি সিনেমায় কাজ করে ফেলেছেন, ‘মহানগর’। সেই ছাত্রীকে নায়িকা হিসেবে পছন্দ  হল হৃষীকেশবাবুর। সেই ছাত্রী জয়া ভাদুড়ি। তাঁর সঙ্গে আসরানিও সুযোগ পেলেন ‘গুড্ডি’তে। তারপর একে একে মেরে আপনে, পরিচয়, অনামিকা, অভিমান, নমক হারাম, মিলি, ছোটি সি বাত, বালিকা বধূ, আলাপ, হিম্মতওয়ালা, জো জিতা ওয়াহি সিকন্দর, মালামাল উইকলি, ওয়েলকাম... ছবির সংখ্যা প্রায় ৩৫০। শেষ ছবি ছিল ‘ননস্টপ ধামাল’। অশক্ত শরীরেও কাজ করেছিলেন ‘ট্রায়াল ২’ সিরিজে। এখানেই শেষ নয়, ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে তাঁকে আমরা শুনেছি ‘দ্য লায়ন কিং’য়ের জাজু চরিত্রে। 
২০০৪ সালে প্রচারে নেমেছিলেন কংগ্রেসের হয়ে। যদিও রাজনীতি নয়, অভিনয়ই ছিল প্রথম ও শেষ প্রেম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ