Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শিক্ষক নিগ্রহে অভিযুক্ত পড়ুয়াদের জন্য শেষমেশ কড়া শাস্তিই বরাদ্দ

উচ্চ মাধ্যমিক ইংরেজি পরীক্ষার দিন, মঙ্গলবার কালিয়াচকের চামাগ্রাম হাইস্কুলে পরীক্ষার্থীদের হাতে নিগৃহীত এবং প্রহৃত হন কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা।

শিক্ষক নিগ্রহে অভিযুক্ত পড়ুয়াদের জন্য শেষমেশ কড়া শাস্তিই বরাদ্দ
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ ও কলকাতা: উচ্চ মাধ্যমিক ইংরেজি পরীক্ষার দিন, মঙ্গলবার কালিয়াচকের চামাগ্রাম হাইস্কুলে পরীক্ষার্থীদের হাতে নিগৃহীত এবং প্রহৃত হন কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা। এই ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ করতে চলেছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, কঠোর নজরদারির মধ্যে পৃথকভাবে অভিযুক্তদের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে ঠিকই। তবে, পরীক্ষা শেষে অভিযুক্তদের এবং তাদের প্রধান শিক্ষককে সশরীরে শুনানির জন্য ডাকা হবে। পড়ুয়াদের কড়া শাস্তির পাশাপাশি প্রয়োজনে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিলের পথেও হাঁটতে পারে সংসদ।

Advertisement

সভাপতি এদিন জানান, চামাগ্রাম হাইস্কুলে তিনটি প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের সিট পড়লেও ক্যামদিটোলা হাইমাদ্রাসার ১১ জন পরীক্ষার্থীকেই আক্রমণকারী হিসেবে এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের পরের পরীক্ষাগুলিতে পৃথকভাবে বসানো হবে। সেই ঘরে থাকবেন তিনজন পরিদর্শক। গেটে তল্লাশির সময় উপস্থিত থাকবেন মালদহ জেলার পরীক্ষা বিষয়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নিজে। এছাড়াও অফিসার ইনচার্জ (পরীক্ষা বিষয়ক) এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গেও কথা বলেছেন সভাপতি। তাঁদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, অর্থনীতি পরীক্ষার দিন উত্তর দিনাজপুরের কেন্দ্রগুলি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন চিরঞ্জীববাবু। রায়গঞ্জ এবং ইটাহারের সাতটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ঘোরেন তিনি। সেখানে পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই মিটেছে। তবে, মালদহের ঘটনাটি নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে সংসদ। রোল নম্বর ধরে এবং ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। পরীক্ষার পরে সংসদে শুনানিতে ডাকা হবে অভিযুক্তদের। থাকবেন প্রধান শিক্ষকও। ইতিমধ্যেই তাঁকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ছাত্রদের সংযত রাখার বার্তা গিয়েছে সংসদের তরফে। তবে যা ঘটেছে, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা শুনানিতে না পেলে দোষীদের এবছরের পরীক্ষা বাতিল তো হবেই, পরবর্তী দু’বছরের জন্যও তাদের সাসপেন্ড করা হতে পারে। অর্থাৎ, এইসময়ের মধ্যে তারা আর পরীক্ষায় বসতে পারবে না।
মালদহে টুকলি নিয়ে কড়াকড়ির ফলে পরীক্ষার শেষদিন বিভিন্ন স্কুলে ভাঙচুরের আশঙ্কা করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সভাপতি বলেন, এরকম পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীদের স্কুলকেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যথায় সেই স্কুলের পরীক্ষার্থীদের ফলপ্রকাশ স্থগিত রাখা হবে। প্রসঙ্গত, মাধ্যমিকেও এরকম ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ফলে, ভাঙচুরের ঘটনা এখন অনেক কম। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ