


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, কলকাতা ও বারাকপুর: প্রার্থীর নামে চমক কি একেই বলে? বৃহস্পতিবার বিজেপির দ্বিতীয় দফার তালিকা প্রকাশের পর বেশ কিছু প্রশ্ন এবং বিতর্ক সামনে আসছে। আর সেইসব ছাপিয়ে গিয়েছে বীজপুরে বিজেপির প্রার্থী নিয়ে চর্চা। এই কেন্দ্রে গেরুয়া ব্রিগেড টিকিট দিয়েছে সুদীপ্ত দাসকে। তিনি তৃণমূল কর্মী রাজু কুড়মি খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত এবং আদালতের নির্দেশে ‘এলাকাছাড়া’। অর্থাৎ, বীজপুর এলাকাতেই তিনি ঢুকতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। তারপরও তিনি প্রার্থী! তবে সুদীপ্ত দাস একা নন, মঙ্গলকোটের বিজেপি প্রার্থী শিশির ঘোষও খুনে অভিযুক্ত।
এদিন ১১২টি কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। এবং এই তালিকার নানা অভিমুখ। ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত যদি এই মুদ্রার একটি পিঠ হয়, তাহলে অন্য পিঠে রয়েছে ঢালাও আসন বদল। সোমবার প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণায় দলবদলুদের ডানা ছাঁটার অঙ্ক সামনে আসা থেকেই স্পষ্ট, কোন্দল বেড়েছে বঙ্গ বিজেপিতে। আর তাই, দ্বিতীয় তালিকায় একাধিক বিধায়ক এবং গতবারের প্রার্থী আগের আসন আর পাননি। খড়্গপুর সদরের বিদায়ী বিধায়ক অভিনেতা হিরণকে নিয়ে আসা হয়েছে শ্যামপুরে। খেজুরির বিদায়ী বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিককে ভগবানপুর থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে ভগবানপুরের বিজেপি বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ মাইতির নাম দ্বিতীয় তালিকায় স্থানই পায়নি। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক মাথাভাঙার প্রার্থী। অথচ এই কেন্দ্রের বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক হলেন সুশীল বর্মন। দার্জিলিংয়ের বিধায়ক নীরজ তামাং জিম্বার পরিবর্তে প্রার্থী করা হয়েছে নোমান রাইকে। কৃষ্ণগঞ্জে বিধায়ক আশিসকুমার বিশ্বাসের পরিবর্তে টিকিট পেয়েছেন সুকান্ত বিশ্বাস। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, জয়পুর আসনটি বিজেপি ছেড়েছে তার জোটসঙ্গীকে। আদিবাসী কুড়মি আন্দোলনের দিক থেকে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। গতবারের বিধায়ক নরহরি মাহাতর পরিবর্তে এবার প্রার্থী হয়েছেন বিশ্বজিৎ মাহাত। আসন বদলে ইন্দ্রনীল খাঁকে বেহালা পশ্চিম এবং রেখা পাত্রকে হিঙ্গলগঞ্জের টিকিট দেওয়া হয়েছে। যদিও তাঁরা বিধায়ক ছিলেন না। দলের অন্দরেই প্রবল ক্ষোভ সামাল দিতে এহেন পদক্ষেপ বিজেপিকে করতে হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তালিকায় সেই অর্থে চমক না থাকলেও প্রাক্তন সাংসদ অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে সোনারপুর দক্ষিণে প্রার্থী করেছে বিজেপি। ওই কেন্দ্রে তাঁর লড়াই হবে বিনোদন জগতের পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধি লাভলি মৈত্রের সঙ্গে। টালিগঞ্জে আবার অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারীকে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে বিজেপি। পাহাড়ের কালিম্পং আসনে বিজেপির চাল, ভারতের প্রাক্তন হকি অধিনায়ক ভরত ছেত্রীকে টিকিট দেওয়া। একটা বিষয় স্পষ্ট, বাংলায় দাঁত ফোটাতে যে কোনো পদক্ষেপ করতেই পিছপা হচ্ছে না গেরুয়া শিবির। সুদীপ্ত দাস তার সেরা উদাহরণ। সুদীপ্ত নিজে অবশ্য দাবি করেছেন, ‘রাজু কুড়মিকে খুনের ঘটনায় আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশে আমি বীজপুর থানা এলাকায় ঢুকতে পারব না। ফলে দলের কর্মী-সমর্থকদের ভরসায় প্রচার সারতে হবে।’ তিনি হাইকোর্টে আবেদন জানাবেন বলেও দাবি করেছেন।
নজরকাড়া বিষয় হল, তমলুক, উত্তরপাড়া, সোনারপুর উত্তর, কল্যাণী, পানিহাটির মতো ৩৮টি কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা বাকি বিজেপির। এসব কেন্দ্রে জট ছাড়ানো যাচ্ছে না। তবে আর জি কর কাণ্ডে অভয়ার মা এদিন প্রকাশ্যে বলেছেন, পানিহাটিতে তিনি প্রার্থী হতে চান। সেই কারণেই কি এই আসন এখনও অঘোষিত?