নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভাইয়ের ফ্ল্যাটের দখল নিতে চেয়েছিল দাদা। তাতে বাধা দেওয়ায় শেষমেশ দাদার হাতে খুন হতে হল ভাই রোহন মণ্ডলকে। এই ঘটনা থেকে পুলিসের নজর ঘোরাতে দাদা অভিজিৎ শুরু থেকেই বলে আসছিল, ভাই আত্মঘাতী হয়েছে। এমনকী, পুলিসকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছিল, জানালার কাচ ভেঙে সে নিজে ভাইকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পুলিসের একটানা জেরায় শেষমেশ খুনের কথা স্বীকার করে নেয় অভিজিৎ। এরপর রবিবার সন্ধ্যায় অভিজিতকে গ্রেপ্তার করে বেলেঘাটা থানা। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলেঘাটার কলিমউদ্দিন সরকার লেনের একটি ফ্ল্যাট থেকে রোহনের দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর শরীরে আঘাতের একাধিক চিহ্ন ছিল। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে স্পষ্টই বলা হয়েছে, খুন করা হয়েছে রোহনকে। কে বা কারা তাঁকে খুন করেছে, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছিল। ধোঁয়াশা কাটাতে তাঁর স্ত্রীকে ডাকা হয়। জানা যায়, এক বছর আগে বিয়ে হলেও তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকতেন না। তাঁর মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ওই দিন ওই ফ্ল্যাটের আশপাশে ছিল না। এমনকী, স্বামীর সঙ্গে তাঁর ফোনে কথাও হয়নি। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ওই যুবকের এক দাদা থাকেন একতলার ফ্ল্যাটে। পৈতৃক সূত্রে চারতলার ফ্ল্যাটটি পেয়েছিলেন রোহন। অফিসারদের সন্দেহ হয়, তাহলে কি সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদ থাকতে পারে? এ ব্যাপারে তথ্য জানতে ডাকা হয় রোহনের দাদা অভিজিতকে। ভাইয়ের আঘাতের কথা সে জানল কী করে, জিজ্ঞাসা করলে বলে, চিৎকার শুনে উপরে ওঠে সে। পরে বয়ান বদল করে বলে, উপরতলার একজন এসে তাকে খবর দেন, রোহন ঘরে পড়ে রয়েছে। অভিজিতের দাবি, উপরে গিয়ে সে দেখে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ। তখন জানালার কাচ ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখে ভাই পড়ে রয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের একাধিক চিহ্ন রয়েছে। বারবার বয়ান বদল করায় তার প্রতি সন্দেহ দৃঢ় হয় তদন্তকারীদের। এরপর শুরু হয় টানা জেরা। শেষ পর্যন্ত জেরায় ভেঙে পড়ে সে পুলিসের কাছে খুনের কথা কবুল করে। গ্রেপ্তার করা হয় অভিজিতকে।
অভিযুক্ত তদন্তকারীদের জানিয়েছে, সে ভাইয়ের ফ্ল্যাটের দখল নিতে চেয়েছিল। কিন্তু রোহন তাতে বাধা দেন। তিনি দালাল মারফত ফ্ল্যাট বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। এই খবর জানার পর সে খুনের পরিকল্পনা করে। সেইমতো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ ছুরি নিয়ে ভাইয়ের ফ্ল্যাটে ঢোকে। রোহন দরজা খুলতেই এলোপাথাড়ি ছুরি মারে ভাইকে। তাতে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন রোহন। ভাইকে খুনের পর সে দরজা খোলা রেখেই নীচে নেমে আসে। এরপর ছুরিটি আশপাশে ফেলে দেয়। খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে পুলিস।