Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাইনে না পেলেও স্কুলে যাবেন শ্যামপুরের হিসাবশাস্ত্রের শিক্ষক

মাইনে না পেলেও স্কুলে যাবেন শ্যামপুরের হিসাবশাস্ত্রের শিক্ষক
  • ৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া : চাকরি বাতিলের রায়ের পরেও তিনি বিদ্যালয়ে যাওয়া ছাড়েননি। প্রতিদিন বিদ্যালয়ে গিয়েছেন পাশাপাশি পরীক্ষায় গার্ডও দিয়েছেন। মঙ্গলবারেও তিনি বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। তবে মাইনা না পেলেও যতদিন নিজের অর্থ ব্যয়ের সামর্থ থাকবে তিনি বিদ্যালয়ে যাবেন। যাতে কোনওভাবেই পড়ুয়ারা বঞ্চিত না হয়। এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের হিসাবশাস্ত্রের শিক্ষক সুশান্ত দত্ত নিয়োগী। গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। এরপর অনেকেই আর বিদ্যালয়মুখী হননি। চাকরি বাতিলের তালিকায় নাম ছিল শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের হিসাবশাস্ত্রের শিক্ষক সুশান্ত দত্ত নিয়োগীর। কিন্তু চাকরি বাতিলের রায়ের পরেও নিজের দায়বদ্ধতায় অবিচল রয়েছেন এই শিক্ষক। তার বক্তব্য, যতদিন আমরা যাতায়াতের খরচ বহন করার সামর্থ্য থাকবে ততদিন আমি বিদ্যালয়ে যাব। কোনওভাবেই পড়ুয়াদের আমি বঞ্চিত করতে পারব না। 

Advertisement

সুশান্তবাবু জানান, ২০১৬ সালের সার্ভিস কমিশনের হিসাবশাস্ত্র বিভাগের তালিকায় আমি তৃতীয় ছিলাম। বিদ্যালয় সূত্রে খবর, বিদ্যালয়ের হিসাবশাস্ত্র বিভাগে মাত্র দু’জন শিক্ষক আছেন। সু্শান্তবাবু ছাড়াও একজন আংশিক সময়ের শিক্ষক আছেন। কার্যত সুশান্তবাবুর কাঁধেই ছিল বিভাগের যাবতীয় দায়িত্ব। ফলে সুশান্তবাবু না গেলে ওই বিভাগের পড়ুয়ারা অথৈ জলে পড়বে।  সুশান্তবাবু জানান, মঙ্গলবার একাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ফল বেরিয়ে গিয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে ক্লাস শুরু। সেই কারণে আমার বিদ্যালয়ে যাওয়া জরুরি। আর এই দায়িত্ববোধ থেকেই সুশান্তবাবু আপাতত বিনা মাইনেতে চাকরি করবেন বলে মনস্থির করেছেন। সুশান্তবাবুর বাড়ি উলুবেড়িয়া থানার ফুলেশ্বরে। প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার খরচ আছে। তা সত্ত্বেও নিজের টাকা খরচ করে তিনি বিদ্যালয়ে যাবেন। সুশান্তবাবুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, পড়ুয়া এবং অভিভাবকরা। -নিজস্ব চিত্র    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ