নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: অনিমেষ মিত্র খুনের ঘটনায় রবিবার রাতে গোলাবাড়ি থেকে আমন গুপ্তা নামের আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে হাওড়া সিটি পুলিস। অনিমেষ ছিলেন হাওড়ায় বিস্কুট কারখানার অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা হিসাবরক্ষক এবং নৈহাটির বাসিন্দা। এই নিয়ে সোমবার পর্যন্ত মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হল। অনিমেষ মিত্রকে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় পুলিসের নজরে রয়েছে আরও একজন। তাঁর সঙ্গে ব্যবসায়িক শত্রুতার কারণেই খুনের যাবতীয় ছক সাজানো হয়েছিল। সন্দেহ গোয়েন্দাদের। এখন মূল অভিযুক্তের খোঁজেই তল্লাশি করছে পুলিস।
অনিমেষকে অপহরণসহ খুনের ঘটনার তদন্তে নেমে হাওড়া সিটি পুলিস গত শনিবারই অভিষেক সোনকরকে গ্রেপ্তার করে। তার সঙ্গেই অনিমেষের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল। অভিষেকের পর ধরা হয় রাজকুমার সাউকে। সে পিলখানার বাসিন্দা। রাজকুমার মূলত গাড়ি চালক। তার গাড়িতেই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় অনিমেষকে। রবিবার রাতে গোলাবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তৃতীয় অভিযুক্ত আমন গুপ্তাকে।
পুলিসের দাবি, লুটের টাকার ভাগ এই তিন অভিযুক্তের পাওয়ার কথা থাকলেও খুনের ঘটনায় তারা সরাসরি জড়িত নয়। পুলিসি তদন্তে জানা যাচ্ছে, অনিমেষকে অপহরণে এক চতুর্থ ব্যক্তিকে তারা প্রত্যেকেই সাহায্য করেছিল। ওই চতুর্থ ব্যক্তিরই খোঁজে চিরুনি তল্লাশিতে নেমেছে পুলিস। তিন অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে মুখোমুখি বসিয়ে দফায় দফায় জেরা করছেন তদন্তকারীরা।
যদিও হাইওয়ের শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই একটি সূত্র খুঁজে পেয়েছে পুলিস। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০ জুন দুপুরে অন্যান্য দিনের মতোই কোম্পানির টাকা ব্যাগে ভরে নিয়ে হাওড়া ময়দান এলাকায় একটি ব্যাঙ্কের দিকে যাচ্ছিলেন অনিমেষ। সেদিন তাঁর ব্যাগে ছিল ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। রাস্তায় বার্ন স্ট্যান্ডার্ড মোড়ের কাছে তাঁর সঙ্গে অভিষেকের দেখা হয়। অনিমেষকে আমন গুপ্তার স্কুটিতে তুলে দেয় অভিষেক। এরপর কোনা মোড়ের কাছে আমন টাকাসহ অনিমেষকে রাজকুমারের চারচাকার গাড়িতে চাপিয়ে দেয়। ওই গাড়িতেই চতুর্থ ব্যক্তিটি উপস্থিত ছিল। অনুমান পুলিসের।
ওই ব্যক্তির সঙ্গে অনিমেষের কোনও বিষয়ে পুরনো ব্যবসায়িক শত্রুতা ছিল বলে পুলিসের সন্দেহ। গাড়িতেই অনিমেষকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। তারপর দেহটি ফেলে দেওয়া হয় বোলপুর এলাকায়। এরপর রামপুরহাটে গা ঢাকা দেয় রাজকুমার। রাজকুমারকে গাড়িসহ গ্রেপ্তারের পাশাপাশি রবিবার রাতে ধরা হয় আমনকেও। মিলেছে তার স্কুটিও। হাওড়া সিটি পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ‘এই ঘটনায় চতুর্থ ব্যক্তিই মূল খনি। পুলিস তাকে শীঘ্রই গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে আশাবাদী। অনুমান, তার কাছে লুটের টাকাও রয়েছে।’