নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শুক্রবার ভোরে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই যুবক ও এক যুবতীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা তিন জন স্কুটারে ঘোলার দিক থেকে খড়দহের দিকে যাচ্ছিলেন। কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। পাশ দিয়ে দ্রুত গতিতে যাওয়া একটি লরিকে ওভারটেক করতে গিয়ে সংঘর্ষ, তারপর স্কুটারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা মারলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদের নাম মফিজুল শেখ (২৩), সঞ্জীব দে(২৬) ও খুশি মজুমদার (১৯)। মৃত দুই যুবক বন্দিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গিয়েছে। মৃত তরুণী বার ড্যান্সার ছিলেন। লরির খোঁজে তল্লাশির পাশাপাশি এই তিনজন ভোরে কোথা থেকে ফিরছিলেন, খতিয়ে দেখছে পুলিস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মফিজুলের বাড়ি রহড়া থানার পাতুলিয়া শ্রীপল্লিতে। সঞ্জীবের বাড়ি বন্দিপুর ঠাকুরকলোনি পিয়ারাবাগান এলাকায়। ওই এলাকাতেই বন্দিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নন্দরাণী বিশ্বাস (সাহা)-এর বাড়ি। মৃত দুই যুবক প্রধানের ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিত। প্রধানের দেওর রানা’র সঙ্গে তাঁদের সবসময় দেখা যেত। মৃত তরুণীর বাড়ি জগদ্দল। পুলিস জেনেছে, তিনি এলাকার বিভিন্ন বারের পাশাপাশি বিহারেও নাচতে যেতেন। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ এই তিনজন একটি স্কুটারে চেপে ঘোলার দিক থেকে খড়দহের দিকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় ওই ঘটনা ঘটে। লরির সঙ্গে সংঘর্ষের পর ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে স্কুটার থেকে বহু দূরে ছিটকে পড়েন তিনজন। কারও মাথায় হেলমেট না থাকায় গুরুতর চোট পান সবাই। স্থানীয়রাই ঘোলা থানায় খবর দেন। পুলিস জখমদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জেনেছে, ওই তরুণীকে নিয়ে দুই যুবক ঘোলা বা আশপাশের এলাকার কোনও হোটেলে বা ডেরায় গিয়েছিলেন। রাতভর হুল্লোড়ের পর ফিরছিলেন তাঁরা। এরকম হুল্লোড়ে রীতিমতো অভ্যস্ত ছিলেন বলেই জানা যাচ্ছে। পঞ্চায়েত প্রধান নন্দরাণী বিশ্বাস (সাহা) বলেন, ‘ওরা খুব ভালো ছেলে। আমরা মর্মাহত। কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, কিছুই বুঝতে
পারছি না।’