Bartaman Logo
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজ্যের হিমঘরগুলিতে এখনো মজুত প্রায় ৯ কোটি ২৬ লক্ষ প্যাকেট   আলুর দাম না পাওয়ায় পুজোর মুখে বিপাকে বহু পরিবার

রাজ্যের হিমঘরগুলিতে এখনও প্রায় ৯ কোটি ২৬ লক্ষ প্যাকেট আলু মজুত রয়েছে

রাজ্যের হিমঘরগুলিতে এখনো মজুত প্রায় ৯ কোটি ২৬ লক্ষ প্যাকেট   আলুর দাম না পাওয়ায় পুজোর মুখে বিপাকে বহু পরিবার
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রাজ্যের হিমঘরগুলিতে এখনও প্রায় ৯ কোটি ২৬ লক্ষ প্যাকেট আলু মজুত রয়েছে। এবছর ১৬ কোটি ১ লক্ষ ৮ হাজার ২৭৮ প্যাকেট আলু মজুত করা হয়েছিল। তারমধ্যে ৬ কোটি ৩৮ লক্ষ ৪২ হাজার ৭৮৫ প্যাকেট আলু হিমঘর থেকে বেরিয়েছে। ৩৯.৮৭ শতাংশ আলু বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অন্যান্য বছর আগস্ট মাসেই ৫০শতাংশ আলু হিমঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এবছর এত বিপুল পরিমাণ আলু এখনো মজুত থাকায় চাষি এবং ব্যবসায়ীদের ঘুম উবে গিয়েছে। অনেকে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পুজোর খরচ জোগাড় করা নিয়েও বহু পরিবার সমস্যায় রয়েছে। তবে, চাষিদের আশা, সরকার পদক্ষেপ নেবে। এই সমস্যা সমাধানের রাস্তা পাওয়া যাবে।

Advertisement

আলু ব্যবসায়ী সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর পূর্ব বর্ধমানে ২ কোটি ৯৩ লক্ষ ৯৫হাজার ৪৪ প্যাকেট হিমঘরে মজুত হয়েছিল। তারমধ্যে ১ কোটি ২৫ লক্ষ ৮২হাজার ৫৯২ প্যাকেট আলু বাজারে গিয়েছে। হুগলিতে ৪৩.০৪, মেদিনীপুরে ৪২.৬৭, বাঁকুড়ায় ৩৭.৫৩ শতাংশ আলু হিমঘর থেকে বের করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের হিমঘরগুলি থেকে ৩১.৫০ শতাংশ আলু বাজারে গিয়েছে। আলু ব্যবসায়ী স্বপন মণ্ডল বলেন, এই অবস্থা চলতে থাকলে ডিসেম্বর মাসেও বহু আলু হিমঘরে থেকে যাবে। বাইরের রাজ্যে আলু পাঠানো না গেলে সমস্যার সমাধান হবে না। 
চাষিরা বলছেন, কেউ বণ্ড কিনতে চাইছে না। বলছে, আলু বিক্রি করে টাকা দেব। অথচ অনেক বাজারে এখনও আলু ১৪ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা দাম না পেলেও ফড়েরা ফায়দা তুলছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সামনের মরশুমে অনেকেই আলু চাষে উৎসাহ হারাবেন। আলু চাষি টুটুল ঘোষ বলেন, আলুর বিক্রির টাকাতেই ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা এবং সংসার খরচ চলে। এবার চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন চলছে। এই সময় প্রতি বছর ভাল দাম পাওয়া যায়। এবার পুজোর মরশুমেও দাম পাওয়া যাবে কি না, সংশয় রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আলু নিয়ে সরকারের বিকল্প ভাবনা না থাকলে আগামী দিনেও চাষিদের সমস্যায় পড়তে হবে। ফলন বেশি হলে দাম পাওয়া যাবে না। আগে ভিনরাজ্যে আলু পাঠিয়ে লাভ পাওয়া যেত। এখন সেই রাস্তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অনেক চাষি হিমঘর থেকে আলু বের করতেই চাইছে না। গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, সরকার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছে। শীঘ্রই এব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ