সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি এখন ২৫০ টাকা। গত ৩ জানুয়ারি আলিপুরদুয়ারে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রমিকদের বলেছিলেন আমাদের ভোটে জেতান। আমরা ভোটে জিতলে শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করে দেব। এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সেই প্রতিশ্রুতির কথা লিফলেটে ছাপিয়ে শ্রমিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাতে হাতে বিলি করার কাজে ঝাঁপাল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও বিজেপির কটাক্ষ, তৃণমূলের এই প্রতিশ্রুতি স্রেফ ভাঁওতা ছাড়া কিছুই নয়। জেলার ৬২টি চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য ৬৫ হাজার লিফলেট ছাপানো হয়েছে। শ্রমিকরা হিন্দিতে কথা বলতে অভ্যস্ত। সেইজন্য হিন্দি ভাষায় লিফলেট করা হয়েছে। প্রতিটি বাগানে তৃণমূল চা শ্রমিক ইউনিয়নের ইউনিট কমিটির সদস্যরা শ্রমিকদের বাড়ি গিয়ে হাতে হাতে ওই লিফলেট বিলিতে ঝাঁপিয়েছেন।
শুধু মজুরি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিই নয়, লিফলেটে শাসক দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জেলার ৫৩টি বাগানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র তৈরির কাজ চলছে। ভোটে জেতালে ছ’মাসের মধ্যে ১০ বেডের ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির নির্মাণ কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে শাসক দল। লিফলেটে লেখা, ভোটে জেতার পর দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিটি বাগানে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু হবে। লিফলেটে জোড়াফুল শিবির আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভোটে জেতার তিন মাসের মধ্যে ৬১টি ক্রেশ চালু হবে। ইতিমধ্যেই ৩৪টি ক্রেশের নির্মাণ কাজ শুরু গিয়েছে। এদিকে, চা শ্রমিকদের পড়ুয়াদের জন্য ইতিমধ্যেই ছ’টি স্কুলবাস চালু হয়েছে। শ্রমিকরা ভোটে জেতালে আরও ১১টি বাস চালু করে দেওয়া হবে।
তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বরাইক বলেন, বিজেপির মতো আমাদের দল জুমলা পার্টি নয়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শ্রমিকদের এই লিখিত প্রতিশ্রুতির কথা লিফলেটে ছাপিয়ে তাঁদের মধ্যে বিলি করা হচ্ছে। আমাদের দল ভোটে জিতলে শ্রমিকদের দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতিই রাখবে। তৃণমূলের প্রতিশ্রুতির ওই লিফলেট হাতে পেয়ে শ্রমিকদের মধ্যে উন্মাদনা শুরু হয়েছে। এদিকে, এই লিফলেটে চা বলয়ে গেরুয়া শিবির অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়ল বলে মনে করছে জেলার রাজনৈতিক মহল। সেই হতাশার কথা ঘুরিয়ে কার্যত স্বীকার করছে বিজেপির লোকজনও। যদিও বিজেপির চা শ্রমিক সংগঠন বিটিডব্লুইউয়ের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ বারলা বলেন, তৃণমূলের এসব প্রতিশ্রুতি ভাঁওতা ছাড়া কিছুই নয়। কারণ শ্রমিকরাও জানেন মজুরি বৃদ্ধি করতে হলে সমস্ত ট্রেড ইউনিয়ন ও মালিক সংগঠনকে নিয়ে বৈঠকে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছতে হবে। তারপরেই মজুরি বাড়ানো সম্ভব হবে। • তৃণমূলের সেই লিফলেট।