Bartaman Logo
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ভোরে অভিষেকের অফিসে ‘দুষ্কৃতী হানা’, লুট ল্যাপটপ-টিভি, অভিযোগের তির বিজেপির দিকে, ধৃত ৬

ভোর সাড়ে চারটে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে হানা দিল দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ উঠল লুট, ভাঙচুর, কর্মীদের আটকে রাখার। এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

ভোরে অভিষেকের অফিসে ‘দুষ্কৃতী হানা’, লুট ল্যাপটপ-টিভি,  অভিযোগের তির বিজেপির দিকে, ধৃত ৬
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোর সাড়ে চারটে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে হানা দিল দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ উঠল লুট, ভাঙচুর, কর্মীদের আটকে রাখার। এই ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক দু’জনই বিজেপি যোগের অভিযোগ তুলেছেন। যদিও তৃণমূলের আনা সেই অভিযোগ নস্যাৎ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। টিভি, ল্যাপটপ, মনিটর সহ বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে অভিষেকের অফিসের পাশের বিল্ডিং থেকেই। 

Advertisement

এক সপ্তাহের মধ্যে তিনটি বড়ো ঘটনা কলকাতার ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে। ২৭ আগস্ট সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে তৃণমূলের বিলবোর্ড খুলতে গিয়েছিল পুরসভা ও পুলিশ। তারপর ৩১ আগস্ট অভিষেকের দপ্তরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে যায় দমকল। আর ৩ সেপ্টেম্বর কাকভোরে দুষ্কৃতী হামলা। ওই বিল্ডিংয়ের সাততলায় অভিষেকের কার্যালয়ে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী মাস্ক পরে প্রবেশ করে। সিসি ক্যামেরায় তোলা সেই ছবি প্রকাশ করেছেন অভিষেক। অভিযোগ, রাতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মীকে প্রথমে মারধর করে দুষ্কৃতীরা। তাঁদের আটকে রাখে। তারপর টিভি, মনিটর, ল্যাপটপ, বায়ু দূষণ রোধক যন্ত্র, ফোন, প্রিন্টার সহ একাধিক বৈদ্যুতিন সামগ্রী লুট করে। বাদ দেয়নি নুডলস, হ্যান্ড ওয়াশও। লুটপাট চালানোর পর অফিসজুড়ে ভাঙচুরও চালায় তারা। সেই ভিডিয়ো সামনে এনেছে তৃণমূল। অভিষেকের অভিযোগ, ‘অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বিজেপির গুন্ডারা আমাদের দলীয় কার্যালয়ে জোর করে ঢুকে পড়ে। আমাদের অফিস কর্মীদের মারধর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। তারপর গোটা অফিস তছনছ করে।’ অভিষেকের দাবি, বারবার ফোন এবং ই-মেল করা সত্ত্বেও পুলিশ সাড়া দেয়নি। প্রায় দু’ঘণ্টা পর তারা আসে। মমতার অভিযোগ, ‘শেক্সপিয়র সরণি থানার নাকের ডগায় তাণ্ডব চালানো হয়েছে। দলিল, রেকর্ড সহ নানা জিনিস লুট হয়েছে। কলকাতায় মধ্যরাতে বিজেপির গুন্ডামি ও বর্বরতা চালিয়েছে।’ ঘটনার ছবি ও ভিডিয়ো সামাজিক মধ্যেমে ছড়িয়ে পরতেই তুমুল শোরগোল পড়ে যায়। কলকাতা পুলিশের অ্যাডিশনাল সিপি (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়াল বলেন, ‘সকাল ৬টা নাগাদ পুলিশ খবর পাওয়ার পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। সংশ্লিষ্ট জায়গা থেকেই ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রত্যেকেরই বাড়ি হাওড়ায়। বাকিদের খোঁজ চলছে। কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।’
৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের ৬ ও ৭ তলায় অভিষেকের কার্যালয়। সাততলায় যে অংশে দুষ্কৃতী হামলা হয়েছে, সেই জায়গাটি তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সিল করে রেখেছে। এদিন সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তৃণমূলের দাবি, অভিষেক বুধবার থেকে দিল্লিতে। তাঁর শহরে না থাকার খবর পেয়ে কার্যালয়ে হামলা চালায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিজেপি কর্মীরা আক্রমণ করলে অনেক আগেই হত। হামলা চালানো বিজেপির সংস্কৃতি নয়। আর তৃণমূলের কার্যালয় তো বাইপাসে, ক্যামাক স্ট্রিটে আছে বলে জানা নেই!’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ