


পিনাকী ধোলে, লাভপুর: লক্ষ্য স্থির, এবার শুধু লক্ষ্যভেদের পালা। বীরভূমের লাল মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে কার্যত ‘কফিনবন্দি’ করার ডাক দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার লাভপুরের ফুল্লরা মায়ের মেলার মাঠে অভিষেকের জনসভায় ভিড় উপচে পড়ে। লাভপুরের তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিংহ এর প্রচারে এসে জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে ৬০হাজার ভোটে জয়ের টার্গেট ঠিক করে দিলেন অভিষেক।
গত বিধানসভা নির্বাচনে লাভপুরে ১৭হাজার ৮০০ভোটে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। গত লোকসভা নির্বাচনে সেই লিড বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮হাজার। এদিন অভিষেকের সোজাসাপ্টা যুক্তি, ‘১৭ হাজার থেকে বেড়ে যদি ৪৮ হাজার হতে পারে, তবে এবার ৬০ হাজার নয় কেন?’
লাভপুর বিধানসভাটি মূলত লাভপুর ব্লকের ১১টি অঞ্চল এবং সাঁইথিয়া ব্লকের ছ’টি অঞ্চল নিয়ে গঠিত। গত লোকসভায় লাভপুরের ১১টি অঞ্চলই তৃণমূলকে ৪৪হাজার ভোটে লিড দিয়েছিল। সাঁইথিয়া বিধানসভার ৬টি অঞ্চলের লিড ছিল চার হাজার। তবে এই ৪৮হাজার লিডের আত্মবিশ্বাসের মাঝেও চোরাস্রোত নিয়ে সতর্ক করেছেন অভিষেক। বিশেষ করে লাভপুর ব্লকের ইন্দাস এবং সাঁইথিয়া ব্লকের শ্রীনিধিপুর ও সাংড়া অঞ্চলে গত লোকসভা নির্বাচনে পিছিয়ে ছিল শাসকদল। এই তিনটি অঞ্চলে ভোটের ঘাটতি মেটাতে হবে বলে তিনি জানিয়ে দেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, খামতি যেখানেই থাক তা উপড়ে ফেলে ৬০ হাজার লিডের পাহাড় গড়তে হবে।
তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎবাবু বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্যমাত্রা আমাদের কাছে শিরোধার্য। মানুষ দু’-হাত তুলে আশীর্বাদ করার জন্য মুখিয়ে আছেন। লাভপুর ব্লক সভাপতি তরুণ চক্রবর্তী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সামনে বিজেপি খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে। আমরা ৬০ হাজারের বেশি ব্যবধানে জিতব।’ জেলা তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলও সুর চড়িয়ে বলেন, ‘বীরভূমের মাটিতে বিজেপি লড়াইয়ে নেই। অভিষেক যে টার্গেট দিয়েছেন আমাদের কর্মীরা তা হাসিল করেই ছাড়বেন।’
এদিন মঞ্চ থেকে অভিষেক শুধু ভোট চাইলেন না, দিলেন সরাসরি যোগাযোগের আশ্বাসও। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূল সরকার যেভাবে মানুষের পাশে রয়েছে সেকথা মনে করিয়ে দেন অভিষেক। বিধায়ক থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত স্তরের নেতাদের উদ্দেশে তাঁর কড়া নির্দেশ, ‘রাস্তা, জল, আলো-মানুষের যা অভাব আছে তালিকা তৈরি করুন। নির্বাচনের পর আমি নিজে বসব।’ অভিষেকের এই আশ্বাস কার্যত বিরোধীদের প্রচারের জমি কেড়ে নেওয়ার কৌশল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সব মিলিয়ে ফুল্লরাতলার সভা থেকে অভিষেক বুঝিয়ে দিলেন, এবারের নির্বাচন শুধু জয়ের জন্য নয়, বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক করে দেওয়ার লড়াই।