নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যেকটি বিধানসভা আসনেই জয়ের টার্গেট নিয়ে ঝাঁপাতে হবে। যে বিধানসভা আসনগুলিতে তৃণমূল জিতে আছে, সেখানে জয়ের মার্জিন বৃদ্ধি করুন। আর যে বিধানসভা এখনও তৃণমূলের হাতে নেই, সেখানে জোড়াফুল ফোটাতে হবে। স্পষ্ট নির্দেশ দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে দলের বৈঠকে অভিষেক এটাও জানিয়েছেন, কোন বুথে কেন পিছিয়ে আছি, সেটা পর্যালোচনা করুন। কারণ খুঁজে বের করুন কেন সেখানে তৃণমূলের প্রতি মানুষ বেশি মাত্রায় আস্থা রাখছেন না। রাজ্যের সর্বত্র উন্নয়ন হচ্ছে। ফলে কোনও বুথে তৃণমূলের পিছিয়ে থাকার কারণ স্থানীয় নেতৃত্বকে খুঁজে বের করতে হবে।
বৃহস্পতিবার হাওড়া সদর, হাওড়া গ্রামীণ ও ঝাড়গ্রাম জেলার তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন অভিষেক। বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে ব্লক ও টাউনের সভাপতি বাছাই নিয়ে। এছাড়াও বিধানসভা ভিত্তিক তৃণমূলের সংগঠন বিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিধায়ক সহ জেলা নেতৃত্বেকে অভিষেক বলেছেন, জনসংযোগ বৃদ্ধি করুন। মানুষের সঙ্গে আরও সম্পর্ক বাড়ান। আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান কর্মসূচিতে আরও বেশি করে যান। প্রতি বুথে ৫০-৬০ জনকে নিয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সভা করুন। আর ভোটার তালিকার দিকে নজর রাখুন। কারও নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না যায়। সূত্রের খবর, হাওড়া কর্পোরেশন ও বালি পুরসভা সংক্রান্ত ভোটের বিষয়টিও বৈঠকে উঠেছিল। যেহেতু প্রশাসনিক বিষয়, ফলে সেবিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কোনও কথাবার্তা হয়নি।
হাওড়া গ্রামীণ জেলার অধীনে আছে আটটি বিধানসভা কেন্দ্র। আটটির মধ্যে বাগনান, আমতা, উলুবেড়িয়া পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ এই পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিধানসভা ভোটের তুলনায় লোকসভার ফলাফলে ভোট প্রাপ্তির হার ছিল দুই থেকে চার শতাংশের মধ্যে। শ্যামপুর এবং সাঁকরাইল এই দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের ভোট প্রাপ্তির শতাংশ একই ছিল। শুধুমাত্র উদয়নারায়ণপুরে বিধানসভার তুলনায় লোকসভা নির্বাচনে ভোট প্রাপ্তির হার ছিল অনেকটাই বেশি। সূত্রের খবর, লোকসভার এই ফলাফলের কারণে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়ক ও দলীয় নেতাদের আরও বেশি করে জনসংযোগে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিটি বুথে যাওয়ার কথা বলেন। পরামর্শ দেন, সবাইকে
নিয়ে চলার।