Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬

সংসদীয় দলের ভাঙন রুখতে দিল্লিতে অভিষেক

দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছেছেন। রাজ্যের রাজনৈতিক সংকট ও বিজেপির বিরুদ্ধে আস্থা ভোটের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

সংসদীয় দলের ভাঙন রুখতে দিল্লিতে অভিষেক
  • ৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: একদিকে মোদি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠক। অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আরও একবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাংগঠনিক বৈঠকের সম্ভাবনা। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, দিল্লিতে দু’টো ‘কর্মসূচি’ই একই দিনে। কাল, সোমবার। এমনিতেই রাজ্য রাজনীতিতে এখন নিত্যদিন ঘটনার ঘনঘটা চলছে। তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুই রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই তাদের পরিষদীয় দল ভেঙে গিয়েছে। সূত্রের খবর, প্রকৃত বিরোধী দল কোন পক্ষ, তা ঠিক করতে ‘আস্থা ভোট’ নিতে পারেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। বিধানসভায় প্রকৃত বিরোধী কে, তা জানতে যদি সত্যিই আস্থা ভোট হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে ভারতের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসাবে চিহ্নিত হবে। এরই মধ্যে এবার নজর রয়েছে তৃণমূলের সংসদীয় দলের দিকেও। কারণ সেখানেও রীতিমতো টালমাটাল পরিস্থিতি। এমন পরিস্থিতিতে শনিবারই দিল্লিতে এসেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, সংসদে বিক্ষুব্ধদের ‘অপারেশন ল্যুটিয়েন্স’ ঠেকাতেই আগেভাগে ভাইপো অভিষেককে দিল্লি পাঠিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার ৮ জুন সিআইডি ডেকেছে অভিষেককে। অথচ সেদিন তিনি দিল্লিতে থাকবেন। জানা গিয়েছে, সিআইডির একটি টিমও দিল্লি পৌঁছে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আজ, রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লি আসছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে থাকছেন তৃণমূলের দু’জন সাংসদ দোলা সেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা যাচ্ছে, আজ, রবিবারই দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করবেন মমতা। সোমবার সকাল ১১টায় দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে মোদি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। 

Advertisement

এমন প্রেক্ষাপটেই রাজ্যের বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লি আসাকে ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে শুভেন্দুবাবুর দিল্লিতে আসার মূল কারণ অন্য। প্রধানত একটি সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিতেই দিল্লি আসছেন তিনি। সোমবার বিজ্ঞান ভবনে আয়ুষ্মান ভারত সংক্রান্ত কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। যদিও বিজেপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তার আগে পরে কিছু সাংগঠনিক ‘কর্মসূচি’ও রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। বিজেপির একটি সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, রবিবার রাতেই দিল্লি আসছেন শুভেন্দুবাবু। তৃণমূল প্রশ্নে বিজেপি আপাতত জল মাপার পথেই হাঁটছে। শনিবার এসংক্রান্ত বিষয়ে দিল্লিতে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘দিগভ্রান্ত কিছু মানুষ যদি এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করেন, ফোন করেন, তাহলে ফোন ধরাটাও একটা ভদ্রতা। কেউ বাড়িতে এলে তাঁকে বসিয়ে চা খাওয়ানোও উচিত। সেটা যদি আমাদের কেউ করে থাকেন, তাহলে করেছেন। এর অর্থ এটা নয়, তাঁদের বিজেপিতে প্রবেশের পথ প্রশস্ত। সেই দরজা বন্ধই।’ শমীকবাবুর এহেন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আবারও তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।  কলকাতা বিমানবন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ