নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত ও বারুইপুর: আজ, শুক্রবার হিঙ্গলগঞ্জে তৃণমূলের কর্মসূচি। পারদ চড়ছে। সভায় বক্তব্য রাখবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিছক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ নয় বরং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া হবে বলে মনে করছে দলের নিচুতলা।প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকে হিঙ্গলগঞ্জে তৃণমূলের অন্দরে বিরুদ্ধ স্বর শোনা যাচ্ছে। বিদায়ী বিধায়ক দেবেশ মণ্ডলকে দল টিকিট দেয়নি। প্রার্থী হয়েছেন আনন্দ সরকার। তিনি ব্লক সভাপতির দায়িত্বেও আছেন। প্রার্থী নিয়ে সিদ্ধান্তে ‘অসন্তুষ্ট’ বিদায়ী বিধায়কের অনুগামীদের একাংশ এখনও মাঠে নামেননি। দেবেশবাবুও সক্রিয়ভাবে প্রচারে অংশ নেননি বলেও শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী হিসাবে রেখা পাত্রের নাম ঘোষণার পর বিরোধী শিবিরেও নিরবচ্ছিন্ন ঐক্যের ছবি নেই। প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে সেখানে যে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে, সেই ইঙ্গিতও মিলছে। তবে তৃণমূলের অন্দরের বিভাজন যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার সুযোগ নিতে পারে বিজেপি এমনটা মনে করছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিঙ্গলগঞ্জ সফর ঘিরে তৃণমূলের কৌশল স্পষ্ট— সংগঠনকে চাঙা করা এবং ভাঙন মেরামত। সেইসঙ্গে সভা থেকে বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বকে ‘অভিমান’ ভাঙাতে কোনো নির্দেশ দেন কি না সেই উত্তর আর কয়েকঘণ্টা পরেই স্পষ্ট হবে! দলীয় সূত্রে খবর, এই সভাকে কেন্দ্র করে অন্তত ৪০ হাজার মানুষের জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এখন দেখার ক্ষুব্ধরা কি নেতৃত্বের বার্তায় আশ্বস্ত হবেন? সেই উত্তরই খুঁজছে তৃণমূল শিবির। তৃণমূল প্রার্থী আনন্দবাবুর কথায়, সবাই আমরা এক হয়ে কাজ করছি। কোনো সমস্যা নেই। বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রর দাবি, আগামী দিনে তৃণমূলের হাতছাড়া হবে এই বিধানসভা। মানুষের উপস্থিতিতি ও স্বতঃস্ফূর্ততা তা প্রমাণ করছে। অন্যদিকে, রায়দিঘি বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী তাপস মণ্ডলের সমর্থনে শুক্রবার সভা করতে আসছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা ঘিরে খাঁড়ি মণ্ডলপাড়া গার্লস স্কুল সংলগ্ন ক্যাথলিক মাঠে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সভাস্থল কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা মাঝে মধ্যে পরিদর্শন করছেন। মথুরাপুর লোকসভার সাংসদ বাপি হালদার বলেন, লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে। রায়দিঘিতে কর্মীদের উদ্দেশে কী বার্তা দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই দিকে তাকিয়ে আছেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা।



