নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একুশের বিধানসভা, চব্বিশের লোকসভায় বিজেপিকে যেভাবে যোগ্য জবাব দেওয়া গিয়েছে, ঠিক একইভাবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও গেরুয়া বাহিনীকে রুখে দেব বলে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের বঞ্চনা, বাংলাকে অশান্ত করার বিজেপি’র ব্লু প্রিন্ট, শিক্ষা ব্যবস্থার উপর আঘাত সহ সাম্প্রতিক প্রত্যেকটি বিষয় তুলে ধরে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হলেন তৃণমূলের সেনাপতি। একবাক্যে বুঝিয়ে দিলেন, ইডি, সিবিআইকে কাজে লাগিয়েও, বিজেপি বাংলা দখল করতে পারবে না।
শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের উদ্বোধন করেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ। নিজের সংসদীয় এলাকার বাইরে কোনও হাসপাতালের উদ্বোধন এটাই তাঁর প্রথম। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যে উন্নয়ন হয়েছে, তা সবিস্তারে তুলে ধরেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি উল্লেখ করেন, ৩৪ বছরে বাম শাসনকালে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে রসাতলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিপ্লব এনেছে। সম্প্রতি ৭৫ দিনব্যাপী ডায়মন্ড হারবার সংসদীয় এলাকায় যে সেবাশ্রয় কর্মসূচি করেছেন, সেটাও জানান দেন তিনি।
উন্নয়নের এই কর্মযজ্ঞে বিজেপি কীভাবে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে, সেটা তুলে ধরে কেন্দ্রের শাসকদলকে নিশানা করেছেন অভিষেক। ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, গ্রাম সড়ক যোজনা সহ বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্রের বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া প্রসঙ্গে অভিষেকের মন্তব্য, বাংলাকে ভাতে মারতে এবং মানুষের পেটে লাথি মারতে চাইছে কেন্দ্রের সরকার। সেই সঙ্গে চলছে বাংলাকে অশান্ত করার বিজেপির নানা পরিকল্পনা।
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের ঠিক এক বছর আগে বিজেপির রাজনৈতিক গেমপ্ল্যান ভোট বাক্সে কোন প্রভাব ফেলবে না, প্রত্যয়ী সুর শোনা গিয়েছে অভিষেকের গলায়। তিনি বলেছেন কেন্দ্র বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে, কুৎসা ষড়যন্ত্র করছে। ইডি,সিবিআইকে কাজে লাগিয়েছে। আমার সেবাশ্রয় কর্মসূচি নিয়েও ট্যাক্স অথরিটিকে নামিয়েছে। কিন্তু এত সব করেও কাঁচকলা হবে। বাংলার মানুষের ক্ষমতা ঠিক কতটা, সেটা বিজেপিকে ল্যাজে গোবরে করে বুঝিয়ে দেব।
যে ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে, তার পিছনে সিপিএম, বিজেপির ষড়যন্ত্র দেখছে তৃণমূল। এ প্রসঙ্গে অভিষেক বলেছেন, কোথাও যেন আমার মনে হচ্ছে বিজেপি রাজ্যের প্রতি যে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে, তারই প্রতিফলন আমরা দেখতে পেয়েছি। তাঁর নিদান, অযোগ্যদের শ্রীঘরে পাঠানো হোক, চাকরি কেড়ে নেওয়া হোক, টাকা ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হোক। কিন্তু তার জন্য বাকিদের কেন চাকরি কেড়ে নেওয়া হবে! বিজেপির এহেন লাগাতার ষড়যন্ত্রের কাহিনী, বাংলার মানুষের কাছে তুলে ধরতে কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড।