নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পালাবদল হলে মেয়ের খুনের বিচার মিলবে। বিধায়ক হয়ে তিনি মেয়ের নৃশংস খুনের ন্যায় বিচার ছিনিয়ে আনবেনই—এমন প্রত্যয় ছিল অভয়ার মা রত্না দেবনাথের। নতুন সরকার গঠনের পরও মেয়ের বিচার নিয়ে এখনও আক্ষেপের সুর পানিহাটির বিধায়ক তথা খুন হওয়া ডাক্তারি পড়ুয়ার মা রত্নাদেবীর গলায়। প্রশ্ন তুললেন, সিবিআই ও আদালতের ভূমিকা নিয়ে। বুধবার রাতে রত্নাদেবী প্রশ্ন তুলে বলেন, সিবিআই বার বার বলছে, ওঁরা ডাক্তার। ওঁদের এভাবে ধরা যাবে না। সেদিন বিচারকও বলেছেন, ওঁনারা ডাক্তার। এভাবে ধরা যাবে না ওঁদের। তাঁর আক্ষেপ, যে মারা গিয়েছিল, সেও একজন ডাক্তার। যারা মেরেছিল তারাও ডাক্তার। রত্নাদেবীর প্রশ্ন, ডাক্তারের আগে তারা তো ক্রিমিনাল। তাহলে কেন আমাদের এই শাসনব্যবস্থা? অন্যদিকে, পানিহাটি শ্মশানে অভয়ার দেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে বুধবার রাতে বেঙ্গালুরু থেকে পানিহাটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে'কে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশ।
বছর দুয়েক আগে আরজিকরে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রথমে শুরু করেছিল রাজ্য পুলিশ। এরপর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে গিয়েছিল। বিগত সরকারের আমলে রাজ্য পুলিশ কিংবা সিবিআই তদন্ত নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছিলেন খুন হওয়া ডাক্তারি পড়ুয়ার পরিবার। মেয়ের বিচার ছিনিয়ে নেওয়ার দাবি করে বিজেপি দলে যোগ দিয়েছিলেন। পালাবদল হয়েছে। বিধায়কও হয়েছেন রত্নাদেবী। এখন সিবিআই তদন্তের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশ পানিহাটি শ্মশানে দ্রুত দেহ সৎকারের পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। স্বাস্থ্য দপ্তরও আরজি কর কাণ্ড নিয়ে নিজেদের মতো তদন্ত করছে। দেহ সৎকারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিলেও এখন নতুন করে তদন্তে নেমে রাজ্য পুলিশ পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন কাউন্সিলার সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা ওই মামলায় জামিনও পান। বুধবার রাতে রাজ্য পুলিশ ওই মামলায় পানিহাটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে’কেও গ্রেপ্তার করেছে। তারপরও মেয়ের বিচার না পাওয়া নিয়ে আক্ষেপের সুর রত্নাদেবীর গলায়। তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থা কোনো দিকেই এগচ্ছে না। জলের মতো সবকিছু স্পষ্ট। সবাই বলেছিল, তৃণমূল সরকার থাকলে কিছু হবে না। পরিবর্তন হলে সব কিছু হবে। আমি কিছুতেই রাজনীতিতে ঢুকতে রাজি ছিলাম না। কোনও দিন রাজনীতির মঞ্চে পা দিতাম না। আমার মেয়ে পছন্দ করত না ওটা। অনেকেই বাড়িতে এসে আমাকে বুঝিয়েছেন। এখন দেখছি, সিবিআই ও আদালত বলছে ডাক্তারদের ধরা যাবে না। তবুও আশায় আছি। মেয়েকে হারিয়েছি, আশা হারালে কী নিয়ে থাকব!
অন্যদিকে, শ্মশানে তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের মামলায় নির্মলবাবু ও সঞ্জীববাবুকে রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও, পলাতক ছিলেন সোমনাথবাবু। বুধবার গভীর রাতে কমিশনারেটের গোয়েন্দা বাহিনী বেঙ্গালুরুর জেপি নগরের একটি আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় জয়নগর হাসপাতালে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে ট্রানজিট রিমান্ডে বৃহস্পতিবার রাতের বিমানে বারাকপুর নিয়ে আসা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রের খবর, সোমনাথবাবুর মেয়ে কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকেন। সেখানে তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন। যদিও কিছু দিন আগে সেখানে হানা দিয়েও তদন্তকারীদের খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল। এবার জাল পেতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হল।