Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জুনপুটে উদ্ধার জলপাইগুড়ির অপহৃত অধ্যাপক

তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ চেয়ে জলপাইগুড়ি পলিটেকনিক কলেজের অধ্যাপক তাপসকুমার মণ্ডলকে অপহরণ করেছিল দুষ্কৃতীরা।

জুনপুটে উদ্ধার জলপাইগুড়ির অপহৃত অধ্যাপক
  • ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক ও সংবাদদাতা, কাঁথি: তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ চেয়ে জলপাইগুড়ি পলিটেকনিক কলেজের অধ্যাপক তাপসকুমার মণ্ডলকে অপহরণ করেছিল দুষ্কৃতীরা। বুধবার দুপুরে পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে অপহৃত অধ্যাপককে উদ্ধার করল পুলিশ। মালদহের ইংলিশবাজার থানার সঙ্গে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। ব্যাগপত্র গুছিয়ে গেস্ট হাউস থেকে বেরিয়ে ডেরা বদল করার সময়ই পাঁচ দুষ্কৃতী ধরা পড়ে। তাপসবাবুকে উদ্ধার করা হয়। ধৃতরা হল কাঁথির আদামবাড় গ্রামের কার্তিক গুছাইত, উত্তর কাদুয়া গ্রামের শেখ রিয়াজ, গোটসাউরি গ্রামের শেখ কালু ও নাজিমুদ্দিন খান ও বসন্তিয়ার শেখ সুরজ। ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর এই অপহরণ কাণ্ডের মূল চক্রী মালদহের বাসিন্দা অমৃত ওরফে অমিত হালদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Advertisement

জলপাইগুড়ি পলিটেকনিক কলেজের অধ্যাপক তাপসবাবু আর্থিকভাবে সচ্ছল। তাঁর স্ত্রীও সরকারি চাকরি করেন। মালদহের ইংরেজবাজার থানার মহানন্দাপল্লিতে তাপসবাবুর বাড়ি। গ্রামে ঘরবাড়ি ও অনেক জায়গা জমি আছে। পুলিস জানিয়েছে, তাপসবাবুকে অপহরণ করে মোটা টাকা কামানোর ফন্দি কষেছিল অমৃত। তার বাড়ি মালদহ গ্রামীণ এলাকায়। যদিও মহানন্দাপল্লিতে তাপসবাবুর বাড়ির পাশে ভাড়ায় থাকত অমৃত। এর আগেও কয়েকটি অপহরণে অমৃতের নাম জড়িয়েছিল। তবে, অধ্যাপককে অপহরণ করার পর অমৃত যোগাযোগ করে কাঁথির কার্তিকের সঙ্গে। দু’জনের মধ্যে আগে থেকে পরিচয় ছিল।
গত ৮সেপ্টেম্বর সোমবার কলেজে যাওয়ার জন্য ভোরবেলা মালদহ টাউন স্টেশন থেকে পদাতিক এক্সপ্রেস ধরে এনজেপি স্টেশনে নামেন তাপসবাবু। সেখানেই কার্তিক ও তার দলবল ওই অধ্যাপককে গাড়িতে তুলে নেয়। এদিকে দুপুরের পর থেকেই তাপসবাবুকে ফোনে পাচ্ছিলেন না তাঁর স্ত্রী রাখী মণ্ডল। মনের মধ্যে নানারকম দুশ্চিন্তা ঘুরেফিরে আসছিল। আচমকা রাখীদেবীর ফোনে একটি ভিডিও কল আসে। কল রিসিভ করতেই একেবারে ভিরমি খাওয়ার মতো ছবি। ফোনের ওপারে তাপসবাবুর মাথায় বন্দুক ঠেকানো। অপহরণকারীরা নিজেদের মুখ ঢেকে রেখেছিল। তাপসবাবুকে ছেড়ে দেওয়ার মুক্তিপণ হিসেবে তিন কোটি টাকা চাওয়া হয়। ওই দৃশ্য দেখেই রাখীদেবী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজবাজার থানায় গিয়ে গোটা বিষয়টি জানান।
ওই থানার পুলিশ ফোনের লোকেশন যাচাই করে প্রথমে করণদিঘি এলাকা দেখতে পায়। এরপর আর লোকেশন পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অপহৃত অধ্যাপক ও দুষ্কৃতীদের অবস্থান জানার চেষ্টা করে পুলিশ। এরপর জানা যায়, তাদের অবস্থান ছিল তমলুক। যদিও ওই টিম কাঁথির দিকে এগিয়ে যাওয়ার তথ্য সামনে আসছিল। সেইমতো পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জুনপুটে পৌঁছে যায়। জুনপুট কোস্টল থানার থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বে একটি গেস্ট হাউসে দুষ্কৃতীরা ওই অধ্যাপককে নিয়ে উঠেছিল। সেখান থেকে ডেরা বদল করে পালানোর মুহূর্তে তাদের পাকড়াও করা হয়। সেইসঙ্গে অধ্যাপককেও উদ্ধার করা হয়।
কাঁথির কার্তিকের সঙ্গে অমৃতের পূর্বপরিচয় ছিল। তারা দু’জনে মিলে ডুয়ার্সের লাটাগুড়ি এলাকায় একটি রিসর্ট খুলতে চেয়েছিল। অর্থের অভাবে সেটা হয়নি। তাই ওই অধ্যাপককে অপহরণ করে রিসর্ট তৈরির স্বপ্নপূরণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু, সেটা সফল হয়নি। আপাতত গোটা টিম শ্রীঘরে। পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য বলেন, জুনপুট থেকে ওই অধ্যাপককে উদ্ধার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে কাঁথির পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ