বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: এখন থেকে আর নিজের খেয়াল-খুশিমতো নাম বা জন্ম তারিখের মতো তথ্য বদল করা যাবে না আধার কার্ডে। প্রতারণা ও ব্যক্তিগত তথ্য বিকৃতি রুখতে এব্যাপারে কড়াকড়ি শুরু করল কেন্দ্রীয় সরকার। সারাজীবনে কতবার ব্যক্তিগত তথ্য পরিবর্তন করা যাবে, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা ইউআইডিএআই। আধারে জন্ম তারিখ উল্লেখ করার ক্ষেত্রে বার্থ সার্টিফিকেটের নিয়মেও জারি হচ্ছে নতুন শর্ত। কোনওভাবেই যাতে এর অন্যথা না হয়, সে জন্য সফ্টওয়্যার পর্যন্ত বদল করা হয়েছে।
আধার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন থেকে সাধারণ মানুষ সারাজীবনে দু’বার মাত্র নিজের নাম বা নামের বানান পরিবর্তন করতে পারবেন। তবে এই নিয়ম পদবির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। জন্ম তারিখ বদল করা যাবে একবারই। দু’বার লিঙ্গ পরিবর্তন করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। তবে এই তালিকার বাইরে থাকছে মোবাইল নম্বর, ই-মেইল এবং ঠিকানা। এই তিন তথ্য যতবার খুশি বদলানো যাবে। প্রতিটি আধার পরিষেবা কেন্দ্র বা ডাকঘর সহ অন্যান্য আধার সুবিধা কেন্দ্রে গেলেই এব্যাপারে বিশদ তথ্য জানা যাবে। অর্থাৎ এর আগে যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাম বা জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে থাকেন, তাহলে তা দেখিয়ে দেবে সফ্টওয়্যার। আর কতবার তিনি তথ্য ‘আপডেট’ করতে পারবেন বা আদৌ তা পারবেন কি না, সেটাও জানিয়ে দেওয়া হবে।
ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেট দিয়ে আধারে জন্ম তারিখ বদলে প্রতারণার ঘটনা দিনদিন বাড়ছে। সেই সব জালিয়াতি আটকাতেও পদক্ষেপ করেছে আধার কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, ২০২২ সালের ৫ মে’র পর যারা জন্মগ্রহণ করেছে, তাদের আধার কার্ডের জন্য যে বার্থ সার্টিফিকেট নথি হিসেবে জমা করতে হবে, তাতে কিউআর কোড থাকা বাধ্যতামূলক। নাহলে সেই জন্ম শংসাপত্রকে বৈধ নথি হিসেবে গ্রাহ্য হবে না। তাছাড়া বার্থ সার্টিফিকেটে যে রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকে, সেই নম্বরটিও আধার কেন্দ্রে জানাতে হবে। সেটি সফ্টওয়্যারে আপলোড না করলে আধার কার্ড তৈরি হবে না।
মোবাইল নম্বর আপডেট করার ক্ষেত্রে নয়া সুবিধা আনা হয়েছে। এখন থেকে নম্বর আপডেট করলে সেটিতে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি আসবে। এবং সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল নম্বর আপডেট হয়ে যাবে। এই ‘রিয়েল টাইম আপডেশন’ আগে সম্ভব ছিল না। তার জন্য কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতো।
দপ্তরের কর্তাদের একাংশের কথায়, নতুন প্রজন্মের আধারের ক্ষেত্রে বার্থ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক। তাই অনেকেই কোনওভাবে ডুপ্লিকেট বা ভুয়ো শংসাপত্র জোগাড় করতেন। এবং সেই নথি জমা করে আধারে জন্ম তারিখের পরিবর্তন করতেন। সেই কাজ এখন আর করা যাবে না। পাশাপাশি বয়সজনিত নানা সুবিধা পেতে অনেকেই বারবার জন্ম তারিখ বদল করতেন। তাও আটকানো যাবে। চাকরি ক্ষেত্রে যেমন অনেকেই বয়স কমিয়ে দেখাতে চান, আবার বার্ধক্যভাতার মতো সিনিয়র সিটিজেন বা প্রবীণ নাগরিকদের সুবিধা আগেভাগে পেতে অনেকে বয়স বাড়াতেও চান। এহেন অবৈধ কারবার রুখতেই এই ব্যবস্থা।