


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ট্রেনের তৎকাল টিকিট বুকিংয়ে বেনিয়ম রুখতে বড় পদক্ষেপ রেলের। এবার তৎকাল টিকিট কাটতে আধার সংযোগ বাধ্যতামূলক করছে রেল। আগামী ১ জুলাই থেকেই এই নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। এরই পাশাপাশি আগামী ১৫ জুলাই থেকে অনলাইন এবং অফলাইনে তৎকাল টিকিট বুকিং করতে আধারভিত্তিক ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) যাচাইয়ের ব্যবস্থাও চালু করছে মন্ত্রক। ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারে রেল বোর্ডের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বুধবার এই ইস্যুতে বিবৃতিও জারি করেছে মন্ত্রক।
সম্প্রতি রেলের তৎকাল টিকিট বুকিংয়ে বড়সড় দুর্নীতির আঁচ পাওয়া যায়। তৎকাল টিকিটের বুকিং ‘উইন্ডো’ খোলার তিন থেকে চার মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে সমস্ত সংরক্ষিত টিকিট। এই মর্মে লাগাতার অভিযোগ আসার পরেই নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় রেলমন্ত্রক। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নিজেই ঘোষণা করেন যে, এক্ষেত্রে আধার সংযোগই একমাত্র দাওয়াই হতে পারে। অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে রেলমন্ত্রক। রেল জানিয়েছে, আইআরসিটিসির মোবাইল অ্যাপ হোক কিংবা ওয়েবসাইট - অনলাইনে তৎকাল টিকিট বুকিং করতে হলে যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযোগ থাকতেই হবে। নাহলে ১ জুলাই থেকে তাঁরা তৎকাল টিকিট কাটতেই পারবেন না। ১৫ জুলাই থেকে এই ব্যবস্থার সঙ্গেই যুক্ত হবে আধারভিত্তিক ওটিপি যাচাই। অর্থাৎ, আধার তথ্যভাণ্ডারে নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে প্রথমে ওটিপি আসবে। তারপরেই তৎকাল বুকিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন যাত্রীরা। তবে এই ব্যবস্থা শুধুমাত্র অনলাইনেই নয়। আগামী ১৫ জুলাই থেকে প্যাসেঞ্জার রিজার্ভেশন সিস্টেম (পিআরএস) কিংবা এজেন্ট মারফৎ তৎকাল টিকিট কাটতে হলেও সংশ্লিষ্ট যাত্রীর মোবাইলে আগে ওটিপি আসবে। তা ‘ম্যাচ’ করলে তবেই বুকিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। অর্থাৎ, ট্রেনের তৎকাল টিকিট নিয়ে কালোবাজারির আশঙ্কা ক্রমশ কমবে।
এক্ষেত্রে দালালরাজ বন্ধ করতে বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছে রেল। এদিন তারা জানিয়েছে যে, প্রথম দিনের তৎকাল টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া শুরুর প্রথম আধঘণ্টা নথিভুক্ত কোনও এজেন্টই তা করতে পারবেন না। এসি ক্লাসের ক্ষেত্রে নথিভুক্ত এজেন্টদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এবং নন-এসির ক্ষেত্রে সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। রেলমন্ত্রকের দাওয়াই, এর ফলে ‘বাল্ক’ বুকিংয়ের সম্ভাবনা কার্যত থাকবেই না। প্রকৃতই যাদের টিকিট প্রয়োজন, তারাই তুলনায় অনেক সহজে তা পাবেন। ইতিমধ্যেই আইআরসিটিসি এবং রেলের প্রযুক্তিগত সহায়কের ভূমিকা পালন করা ‘সিআরআইএস’কে এই ব্যাপারে যাবতীয় সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা গিয়েছে জোনেও।