অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: মিড ডে মিল থেকে শুরু করে মেডিক্যাল বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রবেশিকা—ছাত্রজীবনের সঙ্গে এখন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে আধার। পড়ুয়াদের রেজিস্ট্রেশন হোক বা কোনও স্কলারশিপ, সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধার জন্য আবেদন—সব ক্ষেত্রেই আধার একটি আবশ্যিক নথি। কিন্তু আধার কর্তৃপক্ষের (ইউআইডিএআই) হিসেব বলছে, ২০২৪-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত এ রাজ্যের ১ কোটি ২৫ লক্ষ শিশু ও কিশোরের বাধ্যতামূলক বা ম্যান্ডেটরি বায়োমেট্রিক আপডেট (এমবিইউ) নেই। ফলে তাদের আধার কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে। বয়স অনুযায়ী এদের সিংহভাগই ছাত্রছাত্রী বলে ধরে নেওয়া যায়। তাই এই প্রক্রিয়া দ্রুত সেরে ফেলার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে বিশেষ নির্দেশ পাঠাচ্ছে শিক্ষাদপ্তর।
আধারের এই ধরনের ‘আপডেট’ হয় পাঁচ থেকে সাত বছর বয়সের মধ্যে। ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সসীমার মধ্যেও তা করা যায়। আঙুলের ছাপ, চোখের মণির ছবি দিয়ে আধার ‘আপডেট’ করাতে হয়। ইউআইডিএআই’র তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে পাঁচ থেকে সাত বছর বয়সিদের মধ্যে এমবিইউ বাকি রয়েছে ৪২ লক্ষ ১৯ হাজারের। আর ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সিদের মধ্যে এখনও ৮৩ লক্ষ ৪ হাজারের আধার ‘আপডেট’ নেই। সব মিলিয়ে সংখ্যাটা ১ কোটি ২৫ লক্ষ ২৩ হাজার।
এই প্রেক্ষিতে রাজ্যের স্কুলশিক্ষা কমিশনার অরূপ সেনগুপ্ত প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের সমস্ত ডিআই-কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। স্কুলস্তরে বিনামূল্যেই এই কাজ করানো যাবে। সেই উপায় বাতলে দিতে বিভিন্ন সমাজমাধ্যমে বাংলায় তৈরি নানা ভিডিও রেফারেন্স হিসেবে পাঠানো হয়েছে। স্কুল পরিদর্শক বা এসআইরাও এগুলি পাঠাচ্ছেন স্কুলে স্কুলে। বিকাশ ভবনের কর্তারা জানাচ্ছেন, আধার কর্তৃপক্ষের অধীনে যে কোনও রেজিস্ট্রার বা এনরোলমেন্ট এজেন্সি, ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিসের মাধ্যমে এই কাজ করা যাবে। সেই সঙ্গে ৬৯০টি আধার এনরোলমেন্ট কিট দেওয়া হবে ব্লকগুলিতে। প্রতিটি ব্লক দু’টি করে এই কিট পাবে। এর জন্য রাজ্য সরকার আধার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া ৮ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা খরচ করছে।
তবে সূত্রের খবর, বিগত বছরগুলিতে একইভাবে যে কিট দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে মাত্র ৩৪টি নাকি কাজ করছে! তাই সেগুলি বাদ দিয়ে বাকি কিট দেওয়া হবে। ফোন নম্বর আপডেট করার প্রয়োজন হলে সেই বাবদ খরচ আধার কার্ড হোল্ডারকেই দিতে হবে। শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকদের বক্তব্য, ইউআইডিএআই থেকে যে সংখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে তাঁরা কিছুটা সন্দিহান। কারণ, আগের দু’বছরে বহু ছাত্রছাত্রীকে এই বাধ্যতামূলক আপডেটের আওতায় আনা হয়েছে। নতুন করে কার্ডও করানো হয়েছে অনেকের। এমনিতে রাজ্যে আধার কার্ড হোল্ডারের সংখ্যা সারা দেশের নিরিখে বেশ ভালো। তবে রাজ্যে ‘আপডেট’ না থাকা আধারের সংখ্যা কত, সেই তথ্য শিক্ষাদপ্তরের কাছেও নেই। অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম নেতা চন্দন গড়াই বলেন, ‘স্কুলশিক্ষায় এবং উচ্চশিক্ষায় আধার এখন অপরিহার্য। তাই সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত।’



