নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার ‘বদলা’ নিতে বন্ধুকে ধারালো অস্ত্রের কোপ যুবকের। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হাবড়া শহরে। আক্রান্তের নাম সৌমিত্র সরকার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিস।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌমিত্রর বাড়ি হুগলির শ্রীরামপুরে। কর্মসূত্রে কয়েক বছর ধরে তিনি গাইঘাটায় থাকতেন। এখানেই তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে গাইঘাটার বাসিন্দা সুশান্ত পালের (নাম পরিবর্তিত)। স্থানীয়দের কথায়, সেই সূত্রে সুশান্তর বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল সৌমিত্রর। এর ফাঁকেই সুশান্তর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন সৌমিত্র। বন্ধু বাড়িতে না থাকলে সৌমিত্র প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে যেতেন। তাঁদের পরকীয়ার সম্পর্ক পাড়ায় কমবেশি সবারই জানা। স্বামীর অনুপস্থিতিতে সৌমিত্রর সঙ্গে প্রায়ই বেড়াতে যেতেন গৃহবধূ। বিষয়টি জানাজানি হতেই সুশান্ত তাঁর স্ত্রীকে সাবধান করে দেন। এদিকে, সৌমিত্রকেও বাড়িতে আসতে নিষেধ করেন। প্রেমের টানে এক রাতে সৌমিত্রর সঙ্গে ঘর ছাড়েন গৃহবধূ। তাঁরা দু’জনে হাবড়া পুরসভার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য হাড়িয়া এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতে শুরু করেন। সুশান্ত খোঁজখবর করে সেই ঠিকানা জেনে ফেলেন। গত সপ্তাহে স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্লাবের সহযোগিতায় স্ত্রীকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু, পরে সেখানে গিয়ে সংসার না করে স্ত্রী চলে যান বাপের বাড়িতে। রবিবার গভীর রাতে সুশান্ত আসেন সৌমিত্রর সঙ্গে দেখা করতে। কেন তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছেন, তা নিয়ে দু’জনের মধ্যে প্রথমে বচসা হয়। ঝামেলা তুঙ্গে উঠলে সুশান্ত আচমকা সৌমিত্রর ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ বসায় বলেই অভিযোগ। তাঁর চিৎকারে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। সুশান্ত তখন সেখান থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজনই রক্তাক্ত অবস্থায় সৌমিত্রকে প্রথমে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তড়িঘড়ি সেখান থেকে তাঁকে কলকাতা আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
আক্রান্ত সৌমিত্র বলেন, ওর সঙ্গে আমার পরিচয় অনেকদিনের। স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে প্রায় রোজই অশান্তি হতো। আমাদের প্রেমের সম্পর্ক কয়েক মাসের। তাই, স্ত্রী হাবড়ায় চলে এসেছিল। পরে সুশান্ত এসে স্ত্রীকে নিয়ে যায়। কিন্তু তারপরেও আক্রোশ কমেনি। রবিবার আমাকে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর ধারালো কাটারি দিয়ে আমার ঘাড়ে কোপ মেরে পালিয়ে যায়। কড়া শাস্তি চাই। হাবড়া থানার পুলিস জানিয়েছে, অভিযুক্ত পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ক’দিন আগেই আমডাঙার তারাবেড়িয়ায় পরকীয়ার ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে। প্রেমিকার স্বামীকে ধারালো কাটারি দিয়ে ‘খুন’ করার পরিকল্পনা করে প্রেমিক। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে গৃহবধূ ও তার প্রেমিককে। প্রেমের ‘কাঁটা’ স্বামীকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ায় ছিল গৃহবধূর লক্ষ্য। প্রেমিককে দিয়েই সে ওই কাজ করাতে চেয়েছিল। এবার সেই কাণ্ডের ছায়া হাবড়ায়।