Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বছর পার, হাওড়ার বেলগাছিয়ায় ভাগাড়ে ধসের ফলে বিপর্যয়ের চিহ্ন এখনও দগদগে

ঠিক এক বছর আগের কথা। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে হাওড়ার বেলগাছিয়ার ভাগাড়ে যে ধস নেমেছিল, তা শহরের বিস্তৃত অঞ্চলের জনজীবনকে এক অসহনীয় পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছিল

বছর পার, হাওড়ার বেলগাছিয়ায় ভাগাড়ে ধসের ফলে বিপর্যয়ের চিহ্ন এখনও দগদগে
  • ১১ মার্চ, ২০২৬ ১৫:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও হাওড়া: ঠিক এক বছর আগের কথা। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে হাওড়ার বেলগাছিয়ার ভাগাড়ে যে ধস নেমেছিল, তা শহরের বিস্তৃত অঞ্চলের জনজীবনকে এক অসহনীয় পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছিল। সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিল এই ভাগাড়। হাওড়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিক বাড়িতে ফাটল ধরেছিল, পদ্মপুকুর জলপ্রকল্পের পাইপলাইন ফেটে বন্ধ হয়েছিল পানীয় জলের পরিষেবা, বিচ্ছিন্ন হয়েছিল বিদ্যুৎ পরিষেবা। সেই ধসের চিহ্ন এখনও দগদগে। বছর পেরিয়ে গেলেও বস্তির রাস্তাঘাট, পাবলিক শৌচালয় সেই ভাঙা অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে। বাড়ি বাড়ি জলের সংযোগ এখনও লাগেনি। বাড়িগুলিতে ফাটল রয়েছে আগের মতোই। তবে আবর্জনার যে পাহাড় ছিল, তার একাংশ সরানোর ফলে দিনভর দুর্গন্ধ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পেয়েছেন মানুষ।

Advertisement

বেলগাছিয়া ভাগাড়ে আবর্জনার স্তূপে ভয়াবহ ধস নামার ফলে বিপর্যস্ত হয়েছিল বিস্তীর্ণ এলাকার জনজীবন। ভাগাড়ে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবর্জনার পাহাড় সরানোর কাজ চলছে। গত এক বছরে সাফ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ মেট্রিক টন জঞ্জাল। বর্ষার আগেই ১ নম্বর জোনের সব আবর্জনা সরিয়ে ফেলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য। ধসের তীব্রতা এবং তার ফলে ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব এতটাই বেশি ছিল যে, এলাকা পরিদর্শন করতে ছুটে গিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। পরে তিনি পুরদপ্তর, সুডা, কেএমডিএ এবং হাওড়া পুরসভার পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ঠিক হয়, জমে থাকা আবর্জনা দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে। সেই অনুযায়ী সামগ্রিক পরিকল্পনা সাজিয়ে কাজ শুরু করে কেএমডিএ। গত এক বছরে সেই কাজ পরিকল্পনামাফিক এগিয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বাকি কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। সেই লক্ষ্যে গত সপ্তাহে বিধাননগরের সদর দপ্তরে হাওড়া পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে ফের পর্যালোচনা বৈঠক করেছে পুরদপ্তর।
আগে হাওড়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকলেই নাকে আসত তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ। আবর্জনার বড়ো বড়ো পাহাড় থেকে নির্গত মিথেন গ্যাস সংলগ্ন বস্তির মানুষকে শ্বাসকষ্টের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তবে এখন সেই পাহাড়ের বড়ো অংশ কেটে সাফ করার ফলে সেই চোখ জ্বালা করা ধোঁয়া আর নেই। এই কাজের জন্য রাজ্যের এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই এলাকার বাসিন্দা রাজকুমার যাদব বলেন, ‘আগে যখন ভাগাড়ে আবর্জনা ফেলা হত, তখন দুর্গন্ধ ও বিষাক্ত গ্যাসকে সঙ্গী করেই দিন কাটাতে হত আমাদের। যখন তখন আগুন লেগে যাওয়ার ভয় থাকত। এখন আগের তুলনায় অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে।’
জানা গিয়েছে, আবর্জনার পাহাড়কে একাধিক জোনে ভাগ করা হয়েছে। তার মধ্যে ১ নম্বর জোনে থাকা মোট ১১ লক্ষ মেট্রিক টন আবর্জনা সাফ করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। ইতিমধ্যেই অর্ধেকেরও বেশি সাফ হওয়ায় কটূ গন্ধের তীব্রতা অনেকটাই কমেছে।বেলগাছিয়া ভাগাড় সংলগ্ন বস্তির বাসিন্দা রেণু যাদব বলেন, ‘ভাগাড়ে ধস নামার পর থেকে এলাকার রাস্তাঘাট ভেঙে গিয়েছে। বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সরবরাহ বন্ধ। মাসের পর মাস এভাবেই কাটাতে হচ্ছে। রাস্তাঘাট ও জলের ব্যবস্থা করুক প্রশাসন।’ আরেক বাসিন্দা দীনেশ পাসোয়ান বলেন, ‘পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণের আশ্বাস পেয়েছিলাম। কিন্তু সব পরিবার ক্ষতিপূরণ পায়নি। বাড়িঘর ভাঙা অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে। কেউ দেখার নেই।’ এবিষয়ে প্রশাসনের কর্তাদের আশ্বাস, সকলের সুরাহার জন্যই পদক্ষেপ করা হয়েছে। হতাশার কোনো কারণ নেই।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ