নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্ষমতায় এলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দমনের আশ্বাস দিয়েছিল বিজেপি। বাংলার মসনদ দখলের পর সেই লক্ষ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তবে শুধু কমিটি গড়ে বা আইন এনেই ক্ষান্ত থাকতে নারাজ ডবল ইঞ্জিন সরকার। এবার পূর্বতন সরকারের দুর্নীতির দলিল সাধারণের সামনে নিয়ে আসতে দপ্তরওয়াড়ি শ্বেতপত্র বা হোয়াইট পেপার প্রকাশ করবে নবান্ন। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বাজেট আলোচনার জবাবি ভাষণে এই ঘোষণা করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
স্বপনবাবু জানিয়েছেন, ‘দূর্নীতি নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে প্রতিটি দপ্তর। যেমন অর্থ দপ্তরের বলবে, কী অব্যবস্থার কারণে এত বড় ঋণের বোঝা হল। অন্যান্য দপ্তর বলবে, কেন প্রকল্পগুলি অর্ধসম্পন্ন হয়ে পড়ে রইল। আবার কোনো দপ্তর তুলে ধরবে, নিয়োগ সংক্রান্ত এতো দুর্নীতি কীভাবে হয়েছিল।’ এখানেই শেষ নয়। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণের সামনে না নিয়ে আসা ক্যাগ রিপোর্টে তথ্যও প্রকাশ করা হবে বলেও অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন।
জবাবি ভাষনে একগুচ্ছ ঘোষণাও করেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রথমত, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং তারাতলার মতো ঘটনার মোকাবিলার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ২০০ জনকে একটি বাহিনী গড়ে তোলা হবে। যাঁদের মধ্যে ৫০ জন করে থাকবেন পাহাড়ে এবং সুন্দরবনে। বাকি ১০০ জন মোতায়েন থাকবেন রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তে। এছাড়াও স্টেট এইডেড কলেজ টিচার্স এবং জাতীয় স্কিল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্কে থাকা ভোকেশনাল শিক্ষকদের প্রতি মাসে ২০০০ টাকা করে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণাও করেন তিনি। এরই পাশাপাশি আবার সন্দেশখালিতে মহিলা থানা, হেমতাবাদে ডিগ্রি কলেজ এবং কালীগঞ্জে মহিলা কলেজ স্থাপনের ঘোষণাও করেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাজেটে দেখা গিয়েছে ৫১ শতাংশ টাকা বেতন এবং পেনশন খাতে চলে যাবে। বাকিটা উন্নয়ন। এটা কি বাস্তব সম্মত? রাজ্যের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাজ্য অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বরাদ্দ নির্ভর বাজেট করেছে বলেও আওয়াজ তোলে তৃণমূল শিবির। এই প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রীর ব্যাখ্যা, কেন্দ্রের টাকা বিদেশ থেকে আসছে না। আর আমি গর্বিত, আমার মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীও আমাকে দিশা দেখিয়েছেন। ৬০ হাজার কোটি তো আছে। কিছু প্রশাসনিক সংস্কার আনলে কেন্দ্রের থেকে আরো ১০ হাজার কোটি টাকা পেতে পারি। এছাড়াও, বালি-পাথর-খনিজ পদার্থ সংক্রান্ত রাজস্ব ফাঁকি আটকানোর মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংখ্যালঘু উন্নয়ন সংক্রান্ত বাজেট কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৫৬০০ কোটির বরাদ্দের মধ্যে পূর্বতন সরকার মাত্র ২৮০০ কোটি খরচ করেছিল। আর আমরা আগামী আট মাসের জন্য ২১০০ কোটির বেশি বরাদ্দ করেছি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তুলনায় অন্নপূর্ণা যোজনায় উপভোক্তা সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। স্বপনবাবুর জবাব, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছিল সকলের জন্য। চাইলে আমার স্ত্রীও পেতে পারতেন। কিন্তু অন্নপূর্ণা যোজনা শুধু মাত্র তাঁদের জন্য, যাঁদের সত্যিই প্রয়াজন আছে।’