নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঢাকঢোল পিটিয়ে চোরবাগান পুজোর মাঠে একটি অস্থায়ীভাবে বানানো ঘরের দেওয়ালে আঁকা হয়েছিল দুর্গার ছবি। দুর্গার আরতি করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যে নির্বাচনে পালাবদলের পর পুজো কমিটির আঁকা সেই ছবি রীতিমতো ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে। ক’দিন আগে সেই চালচিত্রকে সামনে রেখে পুজোর খুঁটিপুজোও হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই দেওয়াল ভাঙা পড়ল। দুর্গার প্রতিমা ও মোদির ছবি আঁকা অস্থায়ী দেওয়াল বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গতবছর পুজোর আগে চোরবাগান পুজো প্রাঙ্গণের সারদা পার্কের সেই মাঠের একটা অংশে টিনের ছাউনি দেওয়া ঘর তৈরি হয়েছিল। ভিতরে ছিল বসার জায়গা এবং শৌচালয়। পুজোর সময় দর্শনার্থীরা কিংবা মাঠে বিভিন্ন সময় হওয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা তা ব্যবহার করতেন। কিন্তু পুরসভার অভিযোগ, পুজোর সময় অস্থায়ী ওই নির্মাণের কথা বলে অনুমতি নেওয়া হলেও তা বছরভর ফেলে রাখা হয়েছিল। এভাবে মাঠ দখল করে রাখা বেআইনি।
এর মধ্যেই আচমকা সেখানে দুর্গা এবং মোদির ছবি আঁকা হয়। কিন্তু পুরসভার মাঠ দখল করে নির্মাণ তৈরি হওয়ায় তা ভেঙে দেওয়ার জন্য পুজো কমিটিকে চিঠি পাঠায় পুরসভার উদ্যান বিভাগ। যদিও এই ঘটনাপ্রবাহের মাঝে চোরবাগান পুজো কমিটির ‘মাথা’ বদল হয়। পুজো কমিটি থেকে সরে দাঁড়ান প্রাক্তন সম্পাদক জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে পুরসভাও মাঠ খালি করতে উঠেপড়ে লাগে। স্থানীয়দের তরফে অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি পুরকর্তাদের। জয়ন্তবাবু বলেন, আমি এখন পুজোর সঙ্গে যুক্ত নেই। কিন্তু যখন যুক্ত ছিলাম তখনই ওই অস্থায়ী দেওয়াল এবং দুর্গা-মোদির সেই চালচিত্র বানানো হয়েছিল। পুরসভা থেকে বারবার আমার কাছে ফোন আসছিল। প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় কোনো পুজোয় এসে মা দুর্গার আরতি করলে ছবিটা ঠিক কেমন হতে পারে, তার একটা কাল্পনিক ছবি আঁকা হয়েছিল। সেটাকে সামনে রেখেই খুঁটি পুজো হয়। কিন্তু পুরসভার নির্দেশের পর আমি বিধানসভা গিয়েছি, স্থানীয় বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রশাসনের বিভিন্ন মহলেও জানিয়েছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। ওই ঘর তো আম জনতার কাজেই লাগত। ওখানে জগন্নাথ মূর্তি ছিল। তা আমি বাড়ি নিয়ে এসেছি। বুধবার রাতে টিনের শেড সরানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার গোটাটাই বুলডোজার দিয়ে ভেঙে তার ছবি ও ভিডিয়ো পুরসভার উদ্যান বিভাগে পাঠিয়ে দিয়েছি। কারণ আমরা না ভেঙে যদি পুরসভা ভাঙত তাহলে জরিমানা নিত।