• একটি স্পাই ছবির কাছে আপনার প্রত্যাশা কী? অজানা এক মিশন, বিপজ্জনক শত্রু, একের পর এক ট্যুইস্ট আর টানটান অ্যাকশন, তাই তো? এ সবই পাবেন শিব রাওয়াল পরিচালিত ‘আলফা’তে। কেবল পাবেন না গল্পে নতুনত্ব। তাহলে কেন দেখবেন ছবিটি? কারণ, আলিয়া ভাট। তাঁর পারফরম্যান্স আর অ্যাকশন দৃশ্য এই ছবির সবচেয়ে বড়ো পাওনা। যোগ্য সঙ্গতে শর্বরী ওয়াঘ। স্বল্প পরিসরেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। চিত্রনাট্য অনুযায়ী, ছোটোবেলায় সীতাকে (আলিয়া ভাট) অপহরণ করে সেনা আধিকারিক ফতেহ (ববি দেওল)। এমন এক সেনাবাহিনী তৈরি করতে চায় ফতেহ, যারা ‘অমর’। সেই ‘মিশন আলফা’র প্রথম শিকার সীতা। বড়ো হয়ে অতীত জানতে পেরে ফতেহকে খতম করার পণ করে সে। তার সঙ্গে হাত মেলায় দুর্গা (শর্বরী) আর বিক্রান্ত কৌল (অনিল কাপুর)। অ্যাকশন কোরিওগ্রাফিই এই ছবির অন্যতম বড়ো আকর্ষণ। বন্দুক যুদ্ধ, স্টান্ট, মারপিট— বড়োপর্দায় উপভোগ্য। তার সঙ্গে একাধিক লোকেশনে শ্যুটিং। সিনেমাটোগ্রাফি মন ভরিয়ে দেবে। ভিএফএক্সও সন্তোষজনক। ছবি মুক্তির আগেই নানা সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছিলেন আলিয়া। তবে তিনি জবাব দিয়েছেন পর্দায়। তাঁর পরিশ্রম স্পষ্ট হয়েছে প্রতিটি দৃশ্যে। শর্বরী যথোপযুক্ত। অনিল কাপুর বরাবরের মতোই বিশ্বাসযোগ্য। খলনায়কের ভূমিকায় ফের চমক দিয়েছেন ববি দেওল। ছবির অন্যতম চর্চার বিষয় ছিল ‘ওয়ার’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ‘কবীর’ অর্থাৎ হৃতিক রোশনের ক্যামিও। যদিও গল্পে তেমন ছাপ ফেলেনি সেই চরিত্র। ছবির প্রথমার্ধেই মূল আকর্ষণের সব রহস্য ফাঁস হয়ে গিয়েছে। তুলনায় দ্বিতীয় ভাগ ম্লান। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের দিকটিও এগিয়েছে পুরনো ছকে। সীতার অতীত, মানসিক যন্ত্রণা বা প্রতিশোধের গল্পে আরও গভীরতা প্রয়োজন ছিল। পরিচালক গল্প ও চরিত্র নির্মাণে যত্ন নিলে ছবিটি আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারত। পুরুষ কেন্দ্রিক স্পাই ইউনিভার্সের মরুভূমিতে দুই নারীর উপস্থিতি মরুদ্যানের মতো। এই ছবি মহিলা বীরদের কুর্নিশ করার গল্প। নারীশক্তির জয়গাথা।



