নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিঃসঙ্গ করে চলে যেতে পারে সকলে, ব্যতিক্রম শুধু বই। বই পাগল বাঙালি কি জানে, শহরের বুকেই চিকিৎসা সংক্রান্ত লক্ষাধিক বই ও জার্নালের অমূল্য রত্নরাজি আছে? সময় সেখানে পিছিয়ে রয়েছে শতাধিক বছর। চারদিকে শুধু বইয়ের গন্ধ। মনোযোগী নীরবতা। ইতিহাস এখানে চুপটি করে বসে থাকে। বিশ্বের ঐতিহ্যশালী প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ লাগোয়া স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন। সেখানে ১৯২১ সালের চারতলা প্রাচীন লাইব্রেরিটিতে কী নেই! এক লক্ষেরও বেশি বই এবং জার্নাল আছে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেটের ১৮২৩ সালের প্রথম সংখ্যা আছে, ইন্ডিয়ান জার্নাল অব মেডিকেল রিসার্চের ১৯১৩ সালে প্রকাশিত প্রথম সংখ্যা, বিশ্ববরেণ্য চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডাঃ ইউ এন ব্রহ্মচারী, ডাঃ শম্ভুনাথ দে, ডাঃ রোনাল্ড রসের লেখা বইয়ের বিরল কালেকশন আছে।
ঊনবিংশ শতকের দিকপাল কলেরা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জন স্নো’র ১৯৩৬ সালের এডিশনের ‘স্নো অন কলেরা’, ডাঃ শম্ভুনাথ দে’র ‘কলেরা’, কিংবদন্তী ম্যালেরিয়া বিশেষজ্ঞ ডাঃ রোনাল্ড রসের ‘মেমরিজ উইথ আ ফুল অ্যাকাউন্ট অফ দ্য গ্রেট ম্যালেরিয়া প্রবলেম অ্যান্ড ইটস সলিউশন’, ইউ এন ব্রহ্মচারীর ১৯২৮ সালের ‘আ ট্রিটিস অন কালাজ্বর’ ইত্যাদি ছাড়াও আছে ক্যালকাটা মেডিকেল জার্নাল, মেডিকেল ডাইজেস্ট, কোয়াটারলি কিউমিলেটিভ ইনডেক্স মেডিকাস, ব্লাড, ল্যানসেট ইত্যাদি। এর কোনোটি শতাব্দীপ্রাচীন, কোনোটি স্বাধীনতা পূর্ব সংখ্যা। দেশের কোভিড লড়াইয়ের অন্যতম সেনাপতি ডাঃ সমীরণ পান্ডা লাইব্রেরিতে বসে পড়ছিলেন। বললেন, ‘এই লাইব্রেরির সঙ্গে কত স্মৃতি জড়িয়ে।’ এই রত্নভাণ্ডারের প্রায় ৫০০ বই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। দুর্মূল্য বইয়ে ঠাসা আলমারিতে চামচিকে এবং বাদুড়ের বিষ্ঠা। বই চুরি আটকাতে সিসিটিভি ও ব্যক্তিগত নজরদারি জরুরি। সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন আরও কর্মীর। দুই লাইব্রেরিয়ান সহ থাকার কথা আটজনের। কিন্তু আছেন মাত্র ৩ জন।
চিকিৎসাশাস্ত্রের অমূল্য ইতিহাস রক্ষায় বইয়ের ডিজিটালাইজেশনের ব্যবস্থা নিতে বহুবার চিঠি দেওয়া হয়েছিল আগের সরকারকে। তবে কাজ হয়নি। এক লাইব্রেরিয়ান বলেন, ডিজিটালাইজেশন না হওয়ায় রোজ একটু একটু করে নিজেদের ইতিহাস আমরা হারাচ্ছি। রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার বলেন, ‘এখনও বই আমার নিত্যসঙ্গী। এমন একটি লাইব্রেরির এই হাল বলছেন? নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেবে সরকার।’