Bartaman Logo
১৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে এক ট্রাক্টর বালি

রাজ্যে বালির দাম ২০০০ টাকা হলেও রঘুনাথপুরে ৭২০০ টাকা। নির্মাণ কাজ বন্ধ, সাধারণ মানুষ সমস্যায়। বিস্তারিত পড়ুন।

নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে এক ট্রাক্টর বালি
  • ১৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রাজ্যে পালাবদলের পর বালির দাম দিয়েছে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। ট্রাক্টর পিছু বালির দাম ২০০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। কিন্তু, পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুর এলাকায় এক ট্রাক্টর বালির দাম নেওয়া হচ্ছে ৭০০০ থেকে ৭২০০ টাকা। কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, রঘুনাথপুরে দামোদর নদীতে কোনো বৈধ বালিঘাট নেই। তাই পাশের বাঁকুড়া জেলা থেকে বালি আনতে পরিবহণ খরচ অনেক বেশি হচ্ছে। রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর মানুষ সস্তায় বালি পাবে বলে আশা করেছিল। কিন্তু, সস্তা তো দূরের কথা, আগে যে দামে বালি পাওয়া যাচ্ছিল এখন তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। যার জেরে আবাস যোজনা প্রাপক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের বাড়ি তৈরির কাজ প্রায় থমকে যাচ্ছে। শিল্প কারখানাগুলিতে নির্মাণ কাজে সমস্যা হচ্ছে। কবে এই এলাকায় বালিঘাট খুলবে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে  মানুষ।

Advertisement

বালি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রঘুনাথপুর এলাকায় দামোদর নদ থাকলেও বৈধ বালিঘাট নেই। পাশের বাঁকুড়া জেলা বালি এনে বিক্রি করা হয়। তৃণমূলের আমলে বেশিরভাগ বালির গাড়ি ওভারলোড করে আনা হত। যার ফলে এলাকার মানুষ সস্তায় বালি পেতেন। ডাম্পারে বালি এনে তা এক জায়গায় মজুত করে রাখা হত। ফলে তখন এলাকার মানুষ সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকায় এক ট্রাক্টর বালি পেতেন। এখন বৈধ বালিঘাট থেকে এক ডাম্পার বালি নিয়ে আনতে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতি টন বালির দাম নেওয়া হচ্ছে ১৭০০ টাকা। একটি ডাম্পারে ৩২ টনের বেশি বালি আনা নিষিদ্ধ। এক ট্রাক্টর বালির ওজন প্রায় চার টন। এর উপর চালক ও খালাসির খরচ রয়েছে। ফলে এলাকায় বালি এনে ব্যবসায়ীরা কী লাভ করবে?
এক বালি ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগে ঘুরপথে বালি আনায় সাধারণ মানুষ সস্তায় বালি পেত। এখন সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনে বালি আনতে হচ্ছে। আগে ডাম্পারে বালি এনে মজুত করে রাখতাম। তারপর ট্রাক্টরে করে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতাম। এখন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ট্রাক্টরে বালি পরিবহণ নিষিদ্ধ।’ যদিও রঘুনাথপুর শহর এলাকায় ট্রাক্টরে বালি পরিবহণের সুযোগ থাকলেও দাম ৭০০০ টাকার বেশি পড়ছে। 
আবাস প্রাপক রাজেশ মণ্ডল, রঞ্জিত বাউরি বলেন, বালির দাম খুব চড়া। এই সামান্য টাকায় আবাস যোজনার বাড়ি কী করে চড়া দামে বালি কিনব? আপাতত বাড়ির কাজ বন্ধ রেখেছি।
সাঁতুড়ির সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য রাজেশ বাউরি বলেন, বালির অভাবে সাধারণ মানুষ ব্যাপক অসুবিধায় পড়েছে। মানুষ কীভাবে আবাস যোজনার কাজ করবে। আমরা বৈধ বালিঘাট খোলা ও সরকারি নির্ধারিত দামে বালি সরবরাহের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছি।
রঘুনাথপুর বিধানসভার বিধায়ক মামণি বাউরি বলেন, বালির সমস্যা নিয়ে একাধিক অভিযোগ এসেছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এখানে বৈধ বালিঘাট খোলা নিয়ে বৈঠক হয়েছে। নিতুড়িয়া ও সাঁতুড়ি এলাকায় বৈধ বালিঘাট খোলার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ