Bartaman Logo
৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাহাড় চড়ার নেশায় বুঁদ শিক্ষিকা, পৌঁছলেন অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্পে

পাহাড় চড়ার নেশায় বুঁদ শিক্ষিকা। বাড়িতে ৬৮ বছরের বৃদ্ধ মা। পড়শিদের উপর তাঁর দেখভালের দায়িত্ব দিয়েই বেরিয়ে পড়েছিলেন পাহাড়ে চড়তে।

পাহাড় চড়ার নেশায় বুঁদ শিক্ষিকা, পৌঁছলেন অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্পে
  • ২৫ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পাহাড় চড়ার নেশায় বুঁদ শিক্ষিকা। বাড়িতে ৬৮ বছরের বৃদ্ধ মা। পড়শিদের উপর তাঁর দেখভালের দায়িত্ব দিয়েই বেরিয়ে পড়েছিলেন পাহাড়ে চড়তে। অবশেষে ৭৫ কিমি ট্রেক করে ৪১৩০ মিটার উচ্চতায় পৌঁছে গেলেন অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্পে। টানা চারদিনের চেষ্টায় জীবনে প্রথমবার পর্বতারোহণ অভিযান সফল হওয়ায় আপ্লুত জলপাইগুড়ির নিউ টাউনপাড়ার বাসিন্দা সোনালি সিং। 

Advertisement

ময়নাগুড়ির দোমোহনি কাঁঠালবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সোনালি। বিয়ে করেননি। দিদির বিয়ে হয়েছে শিলিগুড়িতে। মাকে নিয়ে জলপাইগুড়িতে থাকেন তিনি। বরাবর পাহাড় তাঁকে টানে। তবে আর পাঁচজনের মতো পাহাড়ে ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন না ওই শিক্ষিকা। ট্রেক করে পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তিনি। এই ইচ্ছেতেই শান দিতে ২০২৩ সালে বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড়ে পৌঁছে যান সোনালি। করেন রক ক্লাইম্বিং কোর্স। তারপর থেকেই একটু একটু করে পাহাড়ে চড়া শুরু হয়। 
ঠিক করেন, অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্প দিয়েই শুরু করবেন পর্বতাভিযান। সেইমতো গত দু’বছর ধরে নিজেকে মানসিক ও শারীরিকভাবে তৈরি করেছেন। কিন্তু মেয়ে এভাবে পাহাড়ে ট্রেকিং করুক, কখনওই চাননি সোনালির মা আরতীদেবী। অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্প অভিযানেও প্রবল আপত্তি ছিল তাঁর। কিন্তু শেষমেশ মেয়ের জেদের কাছে হার মানেন মা। অভিযানে যাওয়ার সম্মতি দেন। 
৮ অক্টোবর বাড়ি থেকে রওনা হন সোনালি। শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি দিয়ে নেপালের কাঁকড়ভিটায় পৌঁছে বাসে চাপেন। ১৬ ঘণ্টার বাস জার্নি করে পৌঁছন নেপালের পোখরা। এরপর অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্পে অভিযানের জন্য সংগ্রহ করেন প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র। ওই অনুমতিপত্র নিয়ে পৌঁছন ঘানড্রুক। সেখান থেকেই শুরু হয় ট্রেকিং। সোনালির কথায়, টানা চারদিন ধরে প্রায় ৭৫ কিমি ট্রেক করে আমি ৪১৩০ মিটার অর্থাৎ সাড়ে ১৩ হাজার ফুট উঁচুতে অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্পে পৌঁছই। এইপথে অজস্র সিঁড়ি পেরতে হয়েছে। ট্রেক করতে হয়েছে পাহাড়। বহু প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্পে পৌঁছনোর পর বুঝেছি, শারীরিক সক্ষমতার চেয়েও মনের জোরটাই আসল। যে পথ চারদিনে উঠেছি, নামার সময় দু’দিনে পেরিয়েছি সেই পথ। এরপর এভারেস্টের বেসক্যাম্পে পৌঁছনোর ইচ্ছে রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ