


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নিটে দুর্দান্ত রেজাল্টের পর বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ভর্তির আগের দিন গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হলেন ওই মেধাবী ছাত্রী দীপশিখা মাইতি(১৯)। মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম-২ব্লকের খোদামবাড়ি গ্রামের ওই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ওই মেধাবী ছাত্রীর বাবা দিলীপ মাইতি মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের সুপার। খবর পেয়ে মেদিনীপুর থেকে বাড়িতে রওনা দেন। মঙ্গলবার মৃত ছাত্রীর দেহ তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয়।
জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রী পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। নিজে গবেষক হতে চেয়েছিলেন। যদিও পরিবারের লোকজনের পছন্দ ছিল, মেয়ে ডাক্তার হোক। এবার নিট পরীক্ষায় বসে ভালো ফলও করেছিলেন। পাশাপাশি গবেষণার সুযোগও পেয়েছিলেন। মেডিক্যাল কাউন্সেলিংয়ের পর বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। মঙ্গলবার সেখানে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। যদিও দীপশিখার গবেষণার প্রতি ঝোঁক ছিল। তিনি ভোপালের একটি নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগও পেয়েছিলেন। সোমবার রাতে বাবার সঙ্গে ফোনে বাঁকুড়া মেডিক্যালে ভর্তি নিয়ে কথাবার্তা হয়। দীপশিখা মেডিক্যালে ভর্তি নিয়ে নিজের অনীহার কথা তাঁর বাবাকে জানান। এনিয়ে কিছুটা মনোমালিন্য হয়। অন্যদিনের মতো সোমবার রাতেও ঠাকুমার ঘরে ঘুমাতে যান। ভোর ৩টে নাগাদ ওই মেধাবী ছাত্রীর মা গিয়ে দেখেন, ঠাকুমার ঘরে মেয়ে নেই। পাশের একটি ঘরে সিলিংফ্যানে দেহ ঝুলছে।
ওই ঘটনায় পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃতের বাবা দিলীপবাবু বলেন, মঙ্গলবার মেয়ের মেডিক্যালে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। তারআগের রাতে এরকম একটি ঘটনায় আমরা সকলেই মর্মাহত।