Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়া স্টেশনে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে যাওয়ার আগে বগি থেকে নামে সন্দেহজনক এক ব্যক্তি

কাটোয়ায় ট্রেনের অগ্নিদগ্ধ কামরার দরজা আগে থেকেই খোলা ছিল। সিসি ক্যামেরায় আগুন লাগার মুহূর্তে ওই ট্রেন থেকে একজনকে নামতে দেখা গিয়েছে।

কাটোয়া স্টেশনে অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে যাওয়ার আগে বগি থেকে নামে সন্দেহজনক এক ব্যক্তি
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ায় ট্রেনের অগ্নিদগ্ধ কামরার দরজা আগে থেকেই খোলা ছিল। সিসি ক্যামেরায় আগুন লাগার মুহূর্তে ওই ট্রেন থেকে একজনকে নামতে দেখা গিয়েছে। রাতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের দরজা বন্ধ করাই নিয়ম। তা খোলা থাকায় তদন্তের মুখে পড়তে পারে খোদ রেল কর্তৃপক্ষ। বহু বছর ধরে কাটোয়ায় ক্যারেজ এবং ওয়াগন বিভাগের কর্মীই নেই। তাই কামরার দরজা বন্ধ করা হয়নি বলে সাফাই দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। অপরিচিত কেউ আগুন লাগিয়ে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছে বলে আরপিএফ ও জিআরপির কাছে পৃথক এফআইআর করেছেন স্টেশন ম্যানেজার। 

Advertisement

গত রবিবার ভোরে কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখার ওই লোকাল ট্রেন স্টেশনের ২নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়েছিল। ওই ট্রেনেরই একটি কামরায় আগুন লাগে। যাত্রীরা প্রাণভয়ে প্ল্যাটফর্মেই ছোটাছুটি করতে থাকেন। ট্রেনটির অন্যান্য কোচ তড়িঘড়ি জ্বলন্ত কামরা থেকে আলাদা করা হয়। দমকলের দু’টি ইঞ্জিন দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মঙ্গলবার কয়েক ঘণ্টা ধরে নমুনা সংগ্রহ করেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন, ট্রেনের ভিতর থেকেই আগুন লেগেছে। প্রথমে ট্রেনের ফোমের গদিতে আগুন ধরে। সেখান থেকে ফ্যানে আগুন লাগে। পরে যা বিধ্বংসী রূপ নেয়। রেলের দাবি, কেউ ভিতরে থেকে আগুন লাগিয়েছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাত ১০টা নাগাদ ১৩টি কামরার ওই ট্রেনটি কাটোয়া স্টেশনের ২নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসে। ক্যারেজ ও ওয়াগন বিভাগের কর্মীদের সেই ট্রেনের দরজা ও জানালা বন্ধ করে রাখার কথা। কিন্তু ২০১৪সালের পর থেকে কাটোয়া থেকে ওই বিভাগ সরিয়ে আজিমগঞ্জে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ ওই কামরায় প্রথম ধোঁয়া দেখা গিয়েছে। ৪টে ৩৬মিনিটে একজন সন্দেহভাজন কামরা থেকে নেমে গিয়ে প্ল্যাটফর্মে থাকা একজনের সঙ্গে কথা বলে। দরজা আগে থেকে বন্ধ থাকলে এতবড় অগ্নিকাণ্ড ঠেকানো যেত বলে মনে করা হচ্ছে। রেলকর্মীদের গাফিলতির দিকেই অনেকে ইঙ্গিত করছেন। কাটোয়া স্টেশন ম্যানেজার সুপ্রভাত ভট্টাচার্য বলেন, কামরার দরজা বন্ধ ছিল না। নতুন নির্দেশিকায় অনুযায়ী স্টেশনে যাঁরা থাকবেন, তাঁদেরই দাঁড়িয়ে থাকা কামরার দরজা ও জানালা বন্ধ করে রাখতে হয়। 
রেল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্ল্যাটফর্মে এখন কাউকেই অযথা ঘোরাঘুরি করতে দেখলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরায় দেখতে পাওয়া সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে খুঁজে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তকারীদের দাবি, দাঁড়িয়ে থাকা কামরায় ব্যাটারিচালিত সংযোগ ছিল। সেক্ষেত্রে কেন সংযোগ বন্ধ করা হয়নি সেব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রেলকর্মীদের গাফিলতির জেরেই অগ্নিকাণ্ড কি না প্রশ্ন উঠছে। কাটোয়া স্টেশনে থাকা রেলকর্মীরা তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। কেন তাঁরা কামরার দরজা বন্ধ করেননি, তা জানতে চাওয়া হতে পারে। কারণ, দরজা বন্ধ থাকলে কেউ ট্রেনে ওঠার সুযোগ পেত না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ