Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গাছ থেকে ঝরে রক্তলাল তরলের ধারা, নিশুতি রাতে পুজো শুরু ডাকিনী-যোগিনীর

ডাকিনী-যোগিনীর পুজো দেওয়ার পর ঠাকুরের দিক থেকে মুখ ফেরাতে নেই। দেবীর দিকে মুখ করে উল্টো পায়ে হেঁটে গ্রামে ফিরতে হয়। পুজো শেষে ভোররাতে ওঠে প্রবল ঝড়। সকালে প্রসাদী ফলমূলের চিহ্নমাত্র মেলে না। এ কিংবদন্তি এখনও লোকমুখে ফেরে কাকদ্বীপে।

গাছ থেকে ঝরে রক্তলাল তরলের ধারা, নিশুতি রাতে পুজো শুরু ডাকিনী-যোগিনীর
  • ১৪ মার্চ, ২০২৬ ০৯:০৩
Prefer us on Google

স্বপন দাস, কাকদ্বীপ: ডাকিনী-যোগিনীর পুজো দেওয়ার পর ঠাকুরের দিক থেকে মুখ ফেরাতে নেই। দেবীর দিকে মুখ করে উল্টো পায়ে হেঁটে গ্রামে ফিরতে হয়। পুজো শেষে ভোররাতে ওঠে প্রবল ঝড়। সকালে প্রসাদী ফলমূলের চিহ্নমাত্র মেলে না। এ কিংবদন্তি এখনও লোকমুখে ফেরে কাকদ্বীপে। 

Advertisement

কাকদ্বীপ যে সময় ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল, সে সময় এই জনপদের মানুষ অপ্রাকৃতিক যে কোনো বিষয়কে ভয়ানকভাবে ভয় করত। তাঁদের ঘোরতর বিশ্বাস ছিল, এই অঞ্চলে ভূত-প্রেতের মারাত্মক উপদ্রব। তাদের কবল এড়িয়ে যে বেঁচে আছেন এই ঢের। সে সময় মেদিনীপুর থেকে একদল মানুষ এখানে আসেন। জঙ্গল কেটে ঘর বানিয়ে শুরু করেন বসবাস। তখন একটি ঘটনা ঘটে যা মানুষের ভয়কে আরও উসকে দেয়। 
জঙ্গল কাটা চলছে একদিন। একটি অচেনা গাছের গায়ে পড়ল কুড়ুলের জোরালো কোপ। গাছের কাণ্ড থেকে রক্তের মত লাল কিছু একটা ঝরতে শুরু করে। প্রবলভাবে ভয় পেয়ে যান গ্রামবাসীরা। বলাবলি শুরু হয়, ওখানেই বাস ডাকিনী-যোগিনীর। তারপর প্রতাপাদিত্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর গোবিন্দপুরে শুরু হয় দুই উপদেবতার পুজো। গাছটি যে কোন প্রজাতির তা কেউ উদ্ধার করতে পারেনি। এখনকার বাসিন্দাদের পূর্বপুরুষরা চিনতে পারেননি গাছটিকে। সেই প্রাচীন বৃক্ষ একসময় শুকিয়ে মরে যায়। রয়ে যায় শুধু কাণ্ডটি। সেখানেই একটি প্রস্তরফলকে ছবি খোদাই করে পুজো হয় ডাকিনী-যোগিনীর। পুজো প্রায় ১৫০ বছরে পা দিল। শনিবার আড়াইটের সময় যখন নিশুতি রাত, চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকারে ছেয়ে থাকবে তখন গাছপালা ঢাকা রহস্যময় জায়গাটিতে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে পুজো হবে ডাকিনী-যোগিনীর। উত্তর গোবিন্দপুরে এখন চলছে পার্বণ। তা শুরু হয় হরি পুজো দিয়ে। দ্বিতীয় দিন হয় বিশালাক্ষী ও শীতলার পুজো। শেষ দিন কালীপুজো করার রীতি। তারপর সেদিনই নিশুতি রাতে গা ছমছমে ফাঁকা মাঠে ওই অচেনা রক্ত বইয়ে দেওয়া গাছের গুঁড়ির নীচে পুজো হয় ডাকিনী ও যোগিনীর। 
পুজো কমিটির সভাপতি মীরা মাইতি বলেন, ‘বছর ১৫ হল গ্রামের মাঠে স্থায়ী মন্দির তৈরি করা হয়েছে। মন্দিরে হরি দেব, বিশালাক্ষী ও শীতলা দেবীর পুজো হয়। আর ফাঁকা মাঠে গাছের গুঁড়ির নীচে একটি বেদী তৈরি করা হয়েছে। সেখানে আলাদাভাবে ডাকিনী ও যোগিনীর পুজো হয়। পুজো শেষে কালী প্রতিমা বিসর্জন করে দেওয়া হয়। ১৪ রকমের ফল আর খই দিতে হয় দেবীকে।’  নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ