নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আমরাই ধরতে পারছি না কোন ওষুধটা ভেজাল। কিউআর কোড পর্যন্ত জাল করছে অসাধু কারবারিরা। জাল ওষুধ নিয়ে শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে নিজেদের অসহায়তার কথাই কবুল করলেন খোদ রাজ্যের ওষুধের দোকানদারদের শীর্ষ সংগঠন বেঙ্গল কেমিষ্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিডিএ) কর্তারাই। সংগঠনের মুখপাত্র শঙ্খ রায়চৌধুরী বলেন, পৃথিবীতে এখন সবচেয়ে বেশি ৩৫ শতাংশ জাল ওষুধ তৈরি হচ্ছে ভারতেই। তারপরই আসছে মিশর ও চীন। নানাভাবে সংগঠন সদস্য দোকানদারদের বোঝাচ্ছি, অতিরিক্ত মুনাফার লোভে অচেনা বিপজ্জনক পথে ওষুধ কিনবেন না। তখন আমাদের থেকে ছাড় কিন্তু পাবেন না। কেন্দ্রের সমালোচনা করে শঙ্খবাবু বলেন, ভেজাল ওষুধ দেশের কোথায় কোথায় তৈরি হচ্ছে, তা কেন্দ্র জানে না, এমনটা হতেই পারে না। কিন্তু ব্যবস্থা হচ্ছে কই? এদিকে শুক্রবার রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা নিম্নমানের ওষুধের তালিকা সর্বস্তরে জানিয়ে সেগুলি সম্পর্কে সতর্ক করল। পাশাপাশি ব্যাচ নম্বর ধরে সেগুলি বাজার থেকে তোলার নির্দেশও জারি হল।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে হাওড়ার আমতায় এক ওষুধের দোকানদারের কাছ থেকে ১৭ লক্ষ টাকার নামী কোম্পানির জাল ব্লাড প্রেশারের ওষুধ বাজেয়াপ্ত হয়। খবর মেলে, বিহার থেকে প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকার জাল ওষুধ কিনেছিলেন ওই ব্যক্তি। ওই ব্যক্তি বিসিডিএ’র সদস্য ছিলেন। তা নিয়েও প্রশ্ন করা হয় সংগঠন কর্তাদের।
সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক পৃথ্বী বসু বলেন, খবর পাওয়ামাত্রই ওই ব্যক্তির সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। সাধারণ মানুষের উদ্দেশে এদিন দোকানদারদের সংগঠনের কর্তারা বলেন, চেনা-পরিচিত দোকান থেকে ওষুধ কেনাটাই শ্রেয়। তাঁরা বলেন, অপরিহার্য পণ্য হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র ওষুধে ১২-১৮ শতাংশ জিএসটি লাগিয়ে রেখেছে। ব্র্যান্ডেড, জেনেরিক ও ব্র্যান্ডেড জেনেরিক—এই তিন ধরনের ওষুধ তিন দামে বাজারে মিলছে। এমন কেন হবে? কেন্দ্র ব্যবস্থা নিক। ওষুধ সস্তা হোক। এক দামে বিক্রি হোক।
দীর্ঘদিনের ওষুধ ব্যবসায়ী সোমনাথ ঘোষ বলেন, ভেজাল ওষুধের চক্র সক্রিয় প্রধানত ভিন রাজ্যে। সেখান থেকে রাজ্যে ঢুকছে। থামাতে না পারলে রোগীদের ক্ষতি। প্রচুর আর্থিক ক্ষতি রাজ্যেরও।