নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: টেস্ট ক্রিকেট থেকে রোহিত শর্মার অবসর এবং পরবর্তী অধিনায়ক নির্বাচনের ব্লু প্রিন্ট কি আগেই তৈরি হয়ে গিয়েছিল? প্রশ্ন ওঠার পিছনে রয়েছে নানা যুক্তি। কারণ, গুজরাত টাইটান্স যখন দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে খেলতে রাজধানীতে গিয়েছিল, তখন টিম ইন্ডিয়ার কোচ গৌতম গম্ভীরের বাড়িতে গিয়েছিলেন শুভমান গিল। তাঁদের মধ্যে হওয়া আলোচনায় ছিলেন নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকরও। তখন অবশ্য রোহিত টেস্ট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি। তার আগেই কোচ গম্ভীরের বাড়িতে গিয়ে গিল ও আগরকরের বৈঠক করা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। ক্রিকেট মহলের প্রশ্ন, তাহলে কি রোহিতকে জোর করেই টেস্ট থেকে সন্ন্যাস নিতে বাধ্য করা হয়েছে, যাতে গিলের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া যায়! এর উত্তর পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। গিল যদি সত্যিই ইংল্যান্ড সফরে টেস্ট অধিনায়ক নির্বাচিত হন, তাহলে নিশ্চিত হওয়া যাবে গম্ভীরের বাড়িতে হওয়া গোপন বৈঠকেই ঠিক হয়েছিল ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা।
কোচ গম্ভীর প্রবলভাবেই গিলকে অধিনায়ক হিসেবে চাইছেন। এই বিষয়ে তিনি পাশে পেয়েছেন অজিত আগরকরকেও। কিন্তু সমস্যা হল, বোর্ডের বেশ কিছু কর্তার পরবর্তী টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে বুমরাহই পছন্দ। একদিকে তিনি অভিজ্ঞ, বিশ্বের এক নম্বর পেসার। এখনও পর্যন্ত স্ট্যান্ড ইন ক্যাপ্টেন হিসেবে সফল বুমবুম। অস্ট্রেলিয়া সফরে রোহিত সিডনি টেস্টে সরে দাঁড়ানোর পর বুমরাহকেই নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই অঙ্কে বুমরাহ কিন্তু প্রবলভাবেই রয়েছেন টেস্ট অধিনায়কের দৌড়ে। তাছাড়া তাঁর পিছনে রয়েছে মুম্বই লবি। সানি গাভাসকর থেকে সঞ্জয় মঞ্জরেকর—সকলেই বুমরাহর হয়েই সওয়াল করেছেন। তাঁদের যুক্তি, বুমবুমের হাতে লাল বলে ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ অনেক বেশি সুরক্ষিত।
কিন্তু গম্ভীর চাইছেন তরুণ ক্রিকেটাকে। সেক্ষেত্রে তাঁর ছড়ি ঘোরাতে সুবিধা হবে। বুমরাহ সিনিয়র ক্রিকেটার। মত চাপিয়ে দেওয়া সহজ নয়। গিল ক্যাপ্টেন হলে দল নির্বাচন থেকে প্রথম একাদশ চয়ন, সব ব্যাপারেই নাক গলাতে পারবেন কোচ। তাছাড়া গিল হলেন গুজরাত টাইটান্সের ক্যাপ্টেন। অর্থাৎ গুজরাত লবির ভোট গিলের দিকে। খোদ জয় শাহ গিলকে পরবর্তী টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে চাইছেন বলে খবর। তবে মুম্বই লবিকে এড়িয়ে গিলকে দুম করে ক্যাপ্টেন ঘোষণা করে দিলে সমস্যা বাড়তে পারে। তাই জল মেপে এগতে চাইছেন নির্বাচকরা। তবে সেই সময় আসন্ন। ইংল্যান্ড সফরের দল নির্বাচন হবে কয়েকদিনের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত টেস্ট দলের ব্যাটন কার হাতে ওঠে সেটাই দেখার।