সুকান্ত বসু, কলকাতা: রথের দিন বাড়ির কালীমূর্তি (ভদ্রকালী) নিরঞ্জনের সময় দুর্গাপ্রতিমার জন্য কিছুটা মাটি তুলে রাখা হয়। প্রতিমা গড়ার মাটির সঙ্গে সেই মাটি মিশিয়ে তৈরি হয় সিঁথির বেণী কলোনির চক্রবর্তী পরিবারের একচালার দুর্গা। এই পুজো এক সময় শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের পাবনা জেলার বোয়ালমাড়িতে। পরবর্তীকালে ঠাঁইনাড়া হয় দুর্গা। পরে তা চলে আসে কলকাতা শহরতলিতে। সেই পুজোই বংশ পরম্পরায় চলে আসছে সিঁথিতে চক্রবর্তী পরিবারে।
এই পরিবারের সদস্য মিঠু ও রিঠু চক্রবর্তী বলেন, এই পুজোর পিছনে রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। কথিত আছে, তাঁদের বংশের এক পূর্বপুরুষ বাংলাদেশে নদীতে স্নান করতে গেলে জলের মধ্যেই তাঁর গায়ে এসে ঠেকে একটি কাঠামো। তিনি তা হাত দিয়ে সরিয়ে দেন। পরের দু’-তিনদিনও একই ঘটনা ঘটে। এরপর একরাতে তিনি স্বপ্নে দেখেন, এক দেবী মূর্তি সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে নির্দেশ দিচ্ছেন, ওই কাঠামোকে জল থেকে তুলে এনে পুজো কর। ওইদিনই সকালে জল থেকে কাঠামো তুলে এনে তৈরি করা হয় দশভুজার মূর্তি। পরিবারে সূচনা হয় দুর্গাপুজোর। যা আজও নিষ্ঠার সঙ্গে চলে আসছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বাড়িতে মা দুর্গাকে প্রতিদিন নানা উপাচারে ভোগ নিবেদন করা হয়। এখানে দশমীর দিন মাকে নিবেদন করা হয় কচুর শাক, ইলিশ মাছ ভাজা ছাড়াও শালুকের ডাঁটা দিয়ে চাটনি, টক দই প্রভৃতি। পুজোর অন্যদিন মাকে দেওয়া হয় নানা ধরনের মাছের ভোগ। তার সঙ্গে দেওয়া হয় ভাজা, নিরামিষ তরকারি, ধোকা ও ছানার ডালনা, পোলাও, লুচি, সাদা ভাত, পায়েস, নানা ধরনের মিষ্টি ও পায়েস। এছাড়াও মাকে নিবেদন করা হয় বিভিন্ন ফল। এই বাড়ির মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে মহাকালের মূর্তি (শিব)। দুর্গাপুজোর সময় তাঁরও বিশেষ পুজো করা হয়। বাড়ির কুলদেবতা মা কালীকে পুজোর চারদিনই ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় বোয়াল মাছ। একচালার মাতৃ প্রতিমায় থাকে শোলার কারুকাজ। সাত ফুটের দুর্গা প্রতিমায় রূপদান করছেন মৃৎশিল্পী রাজু পাল।
চক্রবর্তী পরিবারের দুর্গা প্রতিমা দশমীর দিন মশাল সহকারে নিরঞ্জন হয়ে থাকে। প্রথা মেনে যাঁরা এই বিসর্জনে অংশ নেন, ফিরে আসার পর তাঁদের ইলিশ মাছ ভাজা খাওয়ানো হয়। পরিবারের সকলের বিশ্বাস, সকলের মঙ্গল কামনায় মা প্রতিনিয়ত এখানে বিরাজমান। নিজস্ব চিত্র