Bartaman Logo
৬ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লাইফস্টাইলে বদল বিজেপি নেতাদের, হাতে-পকেটে আইফোন, সুখ-শখে দেদার বদল গাড়িও

তিন মাসেই যেন জাদুদণ্ড পেয়ে গিয়েছেন এক শ্রেণির বিজেপি নেতা। আর সেই জাদুদণ্ডের ছোঁয়ায় রাতারাতি বদলে গিয়েছে তাঁদের লাইফস্টাইল।

লাইফস্টাইলে বদল বিজেপি নেতাদের, হাতে-পকেটে আইফোন, সুখ-শখে দেদার বদল গাড়িও
  • ৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তিন মাসেই যেন জাদুদণ্ড পেয়ে গিয়েছেন এক শ্রেণির বিজেপি নেতা। আর সেই জাদুদণ্ডের ছোঁয়ায় রাতারাতি বদলে গিয়েছে তাঁদের লাইফস্টাইল। যাঁদের হাতে চার মাস আগেও সাধারণ মোবাইল থাকত, এখন তাঁদের পকেটে একাধিক আইফোন। বিশেষ অ্যাপ ছাড়া ‘গোপন’ কথা বলতে চান না। কয়েক দিন অন্তর অন্তর তাঁদের শখ-আহ্লাদ বদলায়। রুচি বদলায়। স্ট্যাটাস সিম্বল হয়েছে গাড়ি। কোন নেতা কত দামি গাড়ি চড়তে পারে, তা নিয়েই চলছে অঘোষিত প্রতিযোগিতা। ফলে, আজ একটা গাড়িতে কোনো নেতাকে দেখা গেলে ক’মাস তিনি অন্য আর একটা দামি গাড়িতে। এইসব নেতাদের হাবভাব দেখে এখন চক্ষুচড়কগাছ লড়াকু আদি নেতাদের। কোনো কাজ না করে কীভাবে ওই নেতারা সেলিব্রেটি জীবন-যাপন করছেন, তার রহস্য খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাঁরা। বর্ধমান থেকে মেমারি,  খণ্ডঘোষ থেকে গলসি—সর্বত্র একই ছবি। তবে, যাঁরা দুর্দিনেও দল করেছেন তাঁরা এতটুকুও বদলাননি। উঠতি নেতাদের এমন আচরণ দেখে তাঁরা আর মুখ বুজে থাকতে পারছেন না। আড়ালে আবডালে আদিদের অনেকেই বলছেন, ‘এমন পরিবর্তন কাম্য ছিল না।’ 

Advertisement

এই তো ক’ দিন আগের কথা।  বিজেপির প্রবীণ নেতা ভীস্মদেব ভট্টাচার্য দলের তোলাবাজদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। বুধবারও মেমারির বিধায়ক মানব গুহ ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘যাঁরা পদে রয়েছেন তাঁরা সংগঠনের স্বার্থে সৎ থাকুন। বাংলার প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ দলের এক নেতা বলছিলেন, শীর্ষ নেতৃত্ব পদক্ষেপ নিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তারপরও অনেকেই বেপরোয়া মনোভাব দেখাচ্ছেন। তিন মাসের মধ্যে উঠতি নেতাদের কিভাবে আর্থিক ভোল বদলে গেল, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। দামি গাড়ি বা তেল খরচ কোথা থেকে পাচ্ছেন? দামি মোবাইল হঠাৎ করে কিভাবে পকেটে ঢুকছে? সেসব খতিয়ে না দেখলে দল বিপাকে পড়বে। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, তোলাবাজির অভিযোগে পূর্ব বর্ধমানের প্রায় ১৫ জন নেতাকে শোকজ করা হয়েছিল। ভোটের ফল বেরনোর পর থেকে তাঁরা বিভিন্নজনকে ফোন করে টাকা চেয়েছিল। এমনকী, এক কোটি টাকা তোলা চাওয়ার দাবি করেছিলেন এক ব্যবসায়ী। এছাড়া অনেককে জরিমানাও করা হয়। জরিমানার টাকা দিতে না পেরে এক তৃণমূল নেতা আত্মহত্যাও করেছেন। তৃণমূলের দাবি, অনেকের চাষে বাধা দেওয়া হচ্ছে। মাধবডিহির এক তৃণমূল নেতার পুকুর থেকে মাছ ধরে নেওয়া হয়েছে। অনেককে কেস দেওয়ার ভয় দেখিয়েও টাকা চাওয়া হচ্ছে। বিজেপিরই একাংশের দাবি, স্থানীয় নেতাদের সেটিং করার জন্য অনেক দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতা অধরা রয়েছেন। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, ‘বাংলার মানুষ সবই দেখছে। এই তিন মাসে সাধারণ মানুষের উপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে।’ বিজেপি নেতা তথা গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, যারা তোলাবাজি করছে পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে। কেউ অত্যাচারিত হলে থানায় অভিযোগ করতে পারেন। তাঁকে সব রকমভাবে সহযোগিতা করা হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ