Bartaman Logo
২৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আর্কিটেক্ট, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে আঁতাত পুর-বিল্ডিং বিভাগের একাংশের, তারাতলা কাণ্ডে তথ্য তদন্তকারীদের হাতে

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের বিপর্যয়ে আর্কিটেক্ট ও ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে পুর-বিল্ডিং বিভাগের আঁতাতের প্রমাণ মিলেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

আর্কিটেক্ট, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে আঁতাত পুর-বিল্ডিং বিভাগের একাংশের, তারাতলা কাণ্ডে তথ্য তদন্তকারীদের হাতে
  • ২৮ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন বিপর্যয়ের তদন্তে নেমে একটি বিষয়ে নিশ্চিত তদন্তকারীরা! তাঁরা নিশ্চিত যে পুরসভার যে ইঞ্জিনিয়াররা প্ল্যানটি অনুমোদন করেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্মাণের আর্কিটেক্ট ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের আঁতাত ছিল। এর নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ তাঁদের হাতে এসেছে। সেই সঙ্গে ওই আর্কিটেক্ট ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে তৎকালীন মেয়রের প্রাক্তন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে নিয়মিত যোগযোগ ছিল, তারও প্রমাণ মিলেছে বলে খবর।

Advertisement

গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় প্রথম থেকেই পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার,আর্কিটেক্ট এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ধৃত আব্দুল হামিদ জেরায় জানিয়েছেন, তদন্তকারীদের নজরে থাকা ওই আর্কিটেক্ট ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার দক্ষিণ কলকাতা ও বন্দর এলাকায় কাজ করেন। তাঁদের সঙ্গে প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলারের ঘনিষ্ঠতা আছে। এসব এলাকায় কেউ বাড়ি তৈরি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য জমি নিলে কাউন্সিলাররা ওই দু’জনের নাম বলে দিতেন। বলা হত, তাঁদের পুরসভায় যোগযোগ আছে। তাই প্ল্যান পাশ করাতে অসুবিধা হবে না। আব্দুলের মতো দালালরাও তাঁদের কাছে যেত প্ল্যান পাশ করানোর জন্য। এই আর্কিটেক্ট ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের একাধিক ইঞ্জিনিয়ারের সখ্য ছিল। এই ইঞ্জিনিয়াররা আবার ‘কালীচারণের লোক’ বলে পরিচিত ছিলেন পুরসভার অন্দরে। সেই যোগসাজশের সূত্রেই টাকার বিনিময়ে একের পর এক প্ল্যান পাশ করিয়ে নিতেন অভিযুক্ত আর্কিটেক্ট ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার। তদন্তকারীদের দাবি, আর্কিটেক্ট নিজে গিয়ে টাকা দিতেন পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের। তারাতলার ওই গোডাউনের প্ল্যানের নকশা নিয়ে পুরসভায় যান আর্কিটেক্ট। প্রাক্তন ওএসডি’র ঘরে সেই নকশা নিয়ে বৈঠকে আর্কিটেক্টের ঘনিষ্ঠ ইঞ্জিনিয়াররাও হাজির ছিলেন। ধৃত আব্দুল তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, সেই বৈঠকেই ঠিক হয়, প্ল্যান পাশ করানোর পর কাজ হবে সেই প্ল্যানের বাইরে গিয়েই। কোনো নজরদারি থাকবে না। কাজ শেষের পর ভিজিট করে ইঞ্জিয়াররা জানিয়ে দেবেন যে সবকিছু প্ল্যানমাফিকই হয়েছে। ফলে কমপ্লিশন সার্টিফিকেটও (সিসি) সহজে মিলে যাবে। সেই পরিকল্পনা মতোই কাজ এগচ্ছিল। এখান থেকেই তদন্তকারীরা নিশ্চিত, পুরসভার ওই ইঞ্জিনিয়াররা আগে থেকেই জানতেন যে ওই সাইটে নিয়ম মানা হচ্ছে না। এমনকি, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার সাইটে না গিয়ে ঘরে বসে সার্টিফিকেট দেন বলেও জানতে পারছে ‘সিট’। তাঁদের খুব শীঘ্রই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে বলে খবর। এদিকে, শনিবার বিল্ডিং বিভাগের এক শীর্ষকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করল লালবাজার। কারণ, ওই শীর্ষকর্তা বিল্ডিং প্ল্যান কমিটির মিটিংয়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কীভাবে তারাতলার প্ল্যান পাশ হল, কেউ আপত্তি তুলেছিলেন কি না, অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থার ছাড়পত্র ছিল কি না ও জমা দেওয়া  নকশায় ত্রুটি ছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ