নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: তিনবছর ধরে সরকারি অনুমোদন রয়েছে। কাগজে-কলমে স্কুল চালুও রয়েছে। কিন্তু সেই স্কুল আসলে একফালি টিনের ঘর। চারজন শিক্ষিকা ও সাকুল্যে দু’জন ছাত্রী রয়েছে রানাঘাট-২ ব্লকে পূর্ণনগরের শান্তি সত্যভাবা বালিকা বিদ্যালয়ে। স্কুল নামাঙ্কিত সেই টিনের ঘর যে কতদিন খোলা হয়নি-তা স্পষ্ট করে কেউ মনে করতে পারছেন না।
২০২২সালে ওই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়। কিন্তু সেটা কাগজে কলমে। প্রথমদিন থেকেই স্কুলের পরিকাঠামো কিছু ছিল না। মাঠের এক কোণে একটি টিনের ঘর বানিয়ে তাকেই স্কুল আখ্যা দেওয়া হয়। বাস্তবে সেই ঘরও তালাবন্ধ। আশপাশে জমে থাকা জল আর হাঁটু অবধি ঘাসের মাঝে সাপখোপ ঘুরে বেড়ায়। ঘরে মাটি সমান করে যে মেঝে করা হয়েছে, সেটিতে এখন মাথা তুলছে ঘাস। তিনমাস ধরে এই স্কুলে পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক শুভ্র নন্দ বলেন, আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। খুব তাড়াতাড়ি ভবন নির্মাণ শুরু হবে। যদিও ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, জমিজটের কারণেই সবকিছু আটকে রয়েছে। দানের জমিতে স্কুল গড়ে উঠেছে। কিন্তু এখনও জমি রেকর্ড হয়নি। ফলে সরকারি অনুদানও মিলছে না। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি অবধি এই উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে দু’জন ছাত্রী রয়েছে, তারা পঞ্চম শ্রেণির। তাও শিক্ষিকারা রীতিমতো ধরেবেঁধে এনে তাদের ভর্তি করিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ওই দু’জনও স্কুলে আসতে পারে না।
স্কুলের টিআইসি অন্তরা বিশ্বাস বলেন, কী করব? এখনও অবধি এক টাকাও সরকারি অনুদান পাইনি। আশপাশের স্কুলে গিয়ে অভিভাবকদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু কেউ ছাত্রী পাঠাতে রাজি হননি। তাই নিজেরা উদ্যোগী হয়ে দু’জন ছাত্রীকে ভর্তি করিয়েছি। বিকাশ ভবন থেকে জেলা শিক্ষাদপ্তর, সর্বত্রই দৌড়ে বেড়াচ্ছি।
এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, বিদ্যালয়ের নাম লেখা ছেঁড়া ব্যানার ঝুলছে। ঘরের ভিতর মাত্র কয়েকটি চেয়ার-টেবিল ও খাতা রয়েছে। পড়াশোনার কোনও পরিবেশ নেই। স্থানীয়রা স্পষ্ট বলছেন, স্কুলের নামে সরকারি টাকা খরচ হলেও এখানে কোনও শিক্ষামূলক কার্যকলাপ চলছে না। এই অবস্থার জন্য প্রশাসনিক জটিলতাকেই দায়ী করছেন তাঁরা।
রানাঘাট-২ এর বিডিও শুভজিৎ জানা বলেন, সম্প্রতি বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। বিএলআরওকে আগামী ৭-১০দিনের মধ্যে জমিটি স্কুলের নামে রেকর্ড করতে বলা হয়েছে। সেটা হলে আমরা যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।
কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন, তিনবছর ধরে সরকারি অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও কেন জমি রেকর্ডের কাজ শেষ করা গেল না? শুধু জমি রেকর্ড না হওয়ায় এলাকার বাসিন্দারা একটি পূর্ণাঙ্গ স্কুল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রাজ্যের অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি স্কুলের এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে।