Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ঠাকুরপুকুরের পুনরাবৃত্তি এবার বেহালায়, বেপরোয়া গাড়ি ঢুকে পড়ল মিষ্টির দোকানে

ঠাকুরপুকুরের পুনরাবৃত্তি এবার বেহালায়, বেপরোয়া গাড়ি ঢুকে পড়ল মিষ্টির দোকানে
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৬ এপ্রিল, ২০২৫। সেদিন ছিল রবিবার। ট্রাফিকবিধি ভেঙে সাতসকালে ভিড়ে ঠাসা ঠাকুরপুকুর বাজারে ঢুকে পড়ে একটি গাড়ি। একের পর এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন মদ্যপ চালক তথা বাংলা ধারাবাহিকের পরিচালক সিদ্ধান্ত দাস ওরফে ভিক্টো। তাতে একজন পথচারীর মৃত্যু হয়। মাসচারেক বাদে সেই রবিবারই বেহালার বুড়ো শিবতলায় ফের বেপরোয়া গাড়ির তাণ্ডব। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালক গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়লেন একটি মিষ্টির দোকানে। জখম হয়েছেন তিন পথচারী। তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘাতক গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করেছে বেহালা থানার পুলিস।

Advertisement

রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। রায় বাহাদুর রোড দিয়ে নিউ আলিপুরের দিকে যাচ্ছিল ঝাঁ চকচকে একটি বিলাসবহুল গাড়ি। গাড়িটি নতুন। সপ্তাহখানেক আগেই কেনা হয়েছে। গাড়ির নম্বরপ্লেট এখনও আসেনি। কাগজে ছাপা নম্বর সাঁটিয়ে চালাচ্ছিলেন চালক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে আসছিল। প্রথমে গাড়িটি এক সাইকেল আরোহীকে চেপে দিলে কোনওক্রমে বেঁচে যান তিনি। এরপর একটি মিষ্টির দোকানের সামনে একটি স্কুটারকে পাশ কাটাতে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই দোকানের ভিতরে গাড়ি নিয়ে ঢুকে যান। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দোকানের একাংশ। সেই সময় বাজারে যাচ্ছিলেন লোকজন। গাড়ির ধাক্কায় ছিটকে পড়েন দু’জন। আরেকজন আটকে যান গাড়ি ও দোকানের মাঝে। তাঁর কোমর ও পায়ে গুরুতর চোট লাগে। আহতের নাম বাবুসোনা সর্দার (৪৪)। বুড়ো শিবতলা মেইন রোডের বাসিন্দা তিনি। 
গাড়িচালক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা গাড়িটিকে ঘিরে ফেলেন। এরপর চালককে আটকে রেখে বেহালা থানায় খবর দেন তাঁরা। ঘটনাস্থলে আসে পুলিস। আহত তিন পথচারীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর দু’জনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাবুসোনাকে ভর্তি করতে হয়। তাঁর কোমর ও পায়ে অস্ত্রোপচার করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, চালককে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিস। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিসের দাবি, অনভিজ্ঞ হাতে গাড়ি চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ঠাকুরপুকুরের দুর্ঘটনায় চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এদিন দুর্ঘটনার পর ব্রেথ অ্যানালাইজারের সাহায্যে চালকের শ্বাস পরীক্ষা করেন জেমস লং ট্রাফিক গার্ডের পুলিস অফিসাররা। কিন্তু, তাঁর শ্বাসে অ্যালকোহলের উপস্থিতি মেলেনি বলে দাবি করেছে পুলিস।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ