সংবাদদাতা, বজবজ: মহেশতলা পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিনগরে ৬০ কাঠা জলাশয় ভরাট আটকাতে রবীন্দ্রনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন পুর চেয়ারম্যান। কিন্তু তারপরও পুলিসকে তেমন সক্রিয় হতে না দেখে অসন্তুষ্ট পুর প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে পুরসভা এবং রবীন্দ্রনগর থানার মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
কীরকম চাপানউতোর? পুর প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘জলাশয় ভরাট নিয়ে যখনই কোনও অভিযোগ ওঠে, পুলিসের তরফে বলা হয়, এখনও পর্যন্ত পুরসভা কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। কীসের ভিত্তিতে এবং কার বিরুদ্ধে ‘অ্যাকশন’ নেওয়া হবে? এসব প্রশ্ন তুলে পুলিস দায় এড়িয়ে যায়।’
তাঁর বক্তব্য, এই কারণে এবার জলাশয়ের দাগ, মৌজা ইত্যাদি উল্লেখ করে স্বয়ং চেয়ারম্যান থানায় অভিযোগ করেছেন। তাহলে রবীন্দ্রনগর থানা এখনও চুপ কেন? পুরো জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ার পর কি তারা সক্রিয় হবে? রবীন্দ্রনগর থানার এক সিনিয়র আধিকারিক বলেন, ‘অভিযোগ এসেছে। তবে মেইলে পেয়েছি। হাতে কপি এলে নিশ্চয়ই পদক্ষেপ করা হবে।’
ওই পুলিস আধিকারিকের আরও বক্তব্য, চেয়ারম্যান চিঠিতে জলাশয়ের বিবরণ দিয়েছেন। কিন্ত মালিকের নাম দেওয়া নেই। পুরসভা আগে মালিকের নাম দিক। তারপর উপরতলার সঙ্গে কথা বলে আইনি পথে যাওয়া হবে।’ পাল্টা পুরসভা বলছে, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলে স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর করে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা পুলিসকে তো আইনেই দেওয়া আছে। তাছাড়া এখনও সেখানে রাতের বেলা ভরাট চলছে বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় শুক্রবার মহেশতলা পুরসভা থেকে ওই জলাশয়ের ভরাট হয়ে যাওয়া অংশে বাঁশ পুঁতে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভরাট আটকাতে চেষ্টায় কোনও খামতি রাখছে না পুর প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত কী হয়, সেটাই দেখার। নিজস্ব চিত্র