Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষ খাওয়া রোগীর ৪ দিনের বিল এক লক্ষ ৪৩ হাজার!

বিষ খেয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর চারদিনের বিল ১লক্ষ ৪৩হাজার ৪৫০টাকা! তমলুক শহরে ডহরপুরে বি-গ্রেডের একটি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে রোগীর বাড়ির লোকজনকে চাপ দিয়ে ইচ্ছেমতো বিল আদায়ের অভিযোগ জমা পড়ল মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে।

বিষ খাওয়া রোগীর ৪ দিনের বিল এক লক্ষ ৪৩ হাজার!
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বিষ খেয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর চারদিনের বিল ১লক্ষ ৪৩হাজার ৪৫০টাকা! তমলুক শহরে ডহরপুরে বি-গ্রেডের একটি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে রোগীর বাড়ির লোকজনকে চাপ দিয়ে ইচ্ছেমতো বিল আদায়ের অভিযোগ জমা পড়ল মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে। তার কপি পৌঁছেছে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও। গুরুতর অভিযোগ আসতেই তড়িঘড়ি তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের সিএমওএইচ বিভাস রায়। আগামী সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় তমলুকে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের অফিসে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্যসাথীতে বি-গ্রেড পাওয়া একটা নার্সিংহোম কীভাবে এত টাকা বিল হাঁকাল, তা নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে।

Advertisement

গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা নাগাদ খেজুরি-১ ব্লকের ইড়িঞ্চি গ্রামের বীরেন্দ্রনাথ গিরি বিষপান করেন। তাঁকে তড়িঘড়ি হেঁড়িয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসক তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। যদিও সেখানকার অ্যাম্বুলেন্স চালক ওই রোগীর পরিজনদের তমলুক শহরে ডহরপুরে ইলেক্ট্রিক সাবস্টেশন সংলগ্ন একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করার জন্য নানাভাবে রাজি করায়। নন্দীগ্রাম জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, হেঁড়িয়ার সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি থেকে রেফার হওয়া ৯০শতাংশ রোগীকে তমলুকের ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়। অ্যাম্বুলেন্স চালকের সঙ্গে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের অবৈধ আঁতাতে এই ঘটনা ঘটছে। সেখানকার অ্যাম্বুলেন্স চালককেও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।
বীরেন্দ্রনাথবাবুর ছেলে তথা অভিযোগকারী খোকন গিরি বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে বাবাকে তমলুক শহরের ওই নার্সিংহোমে আনা হয়। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনায় তিনদিনের চিকিৎসা বাবদ ৭০-৭৫ হাজার টাকা খরচ হবে বলে ঠিক হয়। সেইমতো ১০সেপ্টেম্বর বাবাকে নার্সিংহোম থেকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়। তারা আরও একদিন রাখার কথা জানায়। এভাবে ১১সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় আমার বাবার চিকিৎসা বাবদ বিল ধরানো হয় ১লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৫০টাকা। আমি খাটাখাটনি করে সংসার চালাই। অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারের কথামতো বাবাকে ওখানে ভর্তি করি। কিন্তু, এত টাকার বিল দেখে মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা। অত টাকা দিতে পারব না বলার পর নার্সিংহোমেই অকথ্য গালিগালাজ করা হয়। মারধরের হুমকিও আসে। অসুস্থ বাবাকেও নানা কটুকথা শোনানো হয়। বিলের সমস্ত টাকা না মেটানো পর্যন্ত রোগীকে ছাড়বে না বলে তারা সাফ জানায়। তারপর বিভিন্নজনের কাছে ধার-দেনা করে টাকা জোগাড় করে পুরো বিল পেমেন্ট করি। ১৬ সেপ্টেম্বর গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাই।
ওই নার্সিংহোমের পার্টনার অরিন্দম রায় বলেন, রোগীর অবস্থা জটিল ছিল। ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়েছিল। তাই অতিরিক্ত বিল হয়েছে। সোমবার সিএমওএইচ অফিস থেকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। আমরা যাব। এনিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের সিএমওএইচ বিভাস রায় বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ