নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আদিবাসীরা কী দিয়ে শিকার করতেন? তাঁদের মূল বাদ্যযন্ত্র কী কী? এরকম নানা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া শুধু নয়, সেসব চাক্ষুষও করা যাবে। কারণ বাসন্তীর জয়গোপালপুর আদিবাসী এফপি স্কুলে গড়ে উঠছে এক টুকরো আদিবাসী গ্রাম। ধামসা-মাদল থেকে তির-ধনুক, দেবদেবীর ছবি থেকে আদিবাসীদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র সবকিছুই রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মিউজিয়ামের নাম দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন আদিবাসী ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রহশালা। এখন চলছে শেষ পর্যায়ের কাজ। ইতিমধ্যে এনিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বিপুল উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। স্কুলের ছাদেই গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ সংগ্রহশালাটি। সাধারণ মানুষকে আদিবাসীদের ব্যাপারে অবহিত করতে এই উদ্যোগ বলে দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের। তবে এই রকম সংগ্রহশালা এর আগে কোনও স্কুলে হয়নি বলেও দাবি করেছেন শিক্ষকরা।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চাশটিরও বেশি সামগ্রী দিয়ে সাজানো হয়েছে এই সংগ্রহশালা। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজনের জীবনযাপন সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী নিয়ে আসা হয়েছে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। কিছু আবার আলাদা করে বানানো হয়েছে। এই সংগ্রহশালায় দেখা যাবে ধামসা-মাদল, তিন ধরনের ধনুক, হাঁড়ি, কলসি, শিকারের জন্য ব্যবহৃত দুই রকমের খাঁচা, পিতলের ঘটি, চাষি জাল, দুই ধরনের বাঁশি, চুবড়ি ইত্যাদি। এছাড়াও আদিবাসীদের বিবর্তনের ইতিহাস দেওয়ালে চিত্র এঁকে দেখানো হয়েছে। এই স্কুল যে গ্রামে অবস্থিত, সেই জয়গোপালপুর আদিবাসী অধ্যুষিত। এই গোটা প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা স্কুলের সহকারী শিক্ষক বিশ্বজিৎ মহাকুর। তাঁর নেতৃত্বে বাকি শিক্ষকরা বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে এই সংগ্রহশালা বানাতে সহযোগিতা করেছেন। বছরখানেক লেগেছে পুরোটা বাস্তবায়ন করতে। বিশ্বজিৎবাবু বলেন, বাসন্তীর এই গ্রামের নতুন প্রজন্মের অনেকেই তাঁদের সংস্কৃতি, ইতিহাস ভালোভাবে জানেন না। যেসব সম্পদ রয়েছে প্রাচীন এই জনজাতিদের সভ্যতা, সংস্কতিতে, সেসবও অনেকের কাছে অজানা। তাই এই সংগ্রহশালা বানিয়ে সবার মধ্যে আদিবাসীদের নিয়ে গণসচেতনতা গড়াই লক্ষ্য। জানা গিয়েছে, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই সংগ্রহশালার উদ্বোধন করা হবে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার জেলা পরিদর্শক প্রকল্পটি পরিদর্শন করে গিয়েছেন। নিজস্ব চিত্র