সংবাদদাতা, বারুইপুর: ঝড়-দুর্যোগ এলেই আতঙ্কে থাকেন নদীর পাড়ের বাসিন্দারা। মাটির বাঁধ ভেঙে পড়ে। হু হু করে জল ঢুকে পড়ে গ্রামে। কুলতলিতে এই সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। কৈখালি ও কুলির ট্যাক এলাকায় মোট ৯০০ মিটার নদী বাঁধ ইটের ব্লক দিয়ে নির্মিত হচ্ছে। এর জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন কুলতলির বিধায়ক গণেশ মণ্ডল। জয়নগর সেচদপ্তর এই কাজ পরিচালনার দায়িত্বে। সেচদপ্তরের এক অতিরিক্ত বাস্তুকার বলেন, প্রায় ৬ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নদী বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। খুব দ্রুত এই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। বিধায়ক গণেশচন্দ্র মণ্ডল বলেন, এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল স্থায়ী নদী বাঁধ। সেই কাজ হতে চলেছে। এর ফলে নদীর পাড়ের মানুষজনের বিপদ কাটবে। বাঁধের কাজ যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকে লক্ষ্য থাকবে আমাদের।
গোপালগঞ্জ পঞ্চায়েত এলাকার কৈখালি ও কুলির ট্যাক এলাকায় মাতলা নদীর পাড়ে পাকাপোক্ত নদী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সেচদপ্তর সূত্রে খবর, কৈখালিতে ৩০০ মিটার ও কুলির ট্যাক এলাকাতে ৬০০ মিটার বাঁধ তৈরি হচ্ছে। কৈখালি এলাকাকে কুলতলির পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। এই এলাকায় শীতের মরশুমে ভিড় বাড়ে পর্যটকদের। কিন্তু সেখানে নদী বাঁধের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল থাকায় মানুষকে ফি বছর দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলে নদী বাঁধ পাহারা দিতে হয় বাসিন্দাদের। স্থায়ী বাঁধের দাবিতে তাই বাসিন্দারা বিধায়কের কাছে দরবার করেছিলেন। সেখানকার এক বাসিন্দা বিশ্বনাথ রায় বলেন, ফি বছর নদী বাঁধ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। নদী বাঁধ শক্তপোক্ত হলে মানুষের অনেক উপকার হবে। বিধায়কের এই কাজকে সাধুবাদ জানাতে হয়। আরেক বাসিন্দা কাজল ঘোষ বলেন, ঝড় হলেই নদী বাঁধ ভেঙে জল ঢুকত এলাকায়। এবার এই সমস্যা মিটবে। সেচদপ্তর দ্রুত কাজ শেষ করুক, এটাই চাই।-