নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বৈষ্ণবদের আদি তীর্থক্ষেত্র গোপীবল্লভপুর। বৈষ্ণব ধর্মের নানা আচার স্থানীয় মানুষের উৎসব অনুষ্ঠানে মিলেমিশে আছে। গোপীবল্লভপুর থানা সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পুজো এবার ৮২তম বর্ষে পদার্পণ করছে। বৃন্দাবনের চন্দ্রোদয় মন্দিরের আদলে মণ্ডপ গড়ে তোলা হচ্ছে।
গোপীবল্লভপুর গুপ্ত বৃন্দাবন নামেও খ্যাত। রাধাগোবিন্দ জিউ মন্দির এলাকার অন্যতম তীর্থস্থান। বৌদ্ধ, নাথ যোগীদের সাধনাস্থলের বহু স্মৃতি এই পূণ্যভূমিতে ছড়িয়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাপন ও সংস্কৃতিতে ধর্মীর প্রভাব দেখা যায়। গ্ৰামীণ এলাকায় সারা বছর হরিনাম সংকীর্তনের অনুষ্ঠান চলে। গোপীবল্লভপুর থানা সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পুজো গত শতকের চল্লিশের দশকে শুরু হয়েছিল। তৎকালীন গোপীবল্লভপুর থানার অফিসার মোহনলাল কাঞ্জিলাল স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে পুজোর সূচনা করেছিলেন। রাধাগোবিন্দ জিউর মন্দিরের প্রধান মহন্ত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। গোপীবল্লভপুর, সাঁকরাইল, নয়াগ্ৰামের মানুষ দল বেঁধে এই পুজো দেখতে আসতেন। গোরুর গাড়িতে করে চাল-ডাল, শাকসব্জি আসত। পুজোমণ্ডপের সামনে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষদের খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। আজও প্রথার বদল হয়নি। রাধাগোবিন্দ জিউ মন্দিরের সামনে বৃন্দাবনের চন্দ্রোদয় মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরির কাজ জোরকদমে চলছে। রীতি মেনে খুঁটিপুজোও হয়েছে। পুজোর চারদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এলাকার কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা জানানো হবে। এছাড়াও দুঃস্থ মানুষদের বস্ত্র বিতরণ করা হবে। সমিতির স্থায়ী সভাপতি রাধা গোবিন্দ জিউ মন্দিরের মহন্ত কৃষ্ণ কেশবানন্দ দেব গোস্বামীকে সামনে রেখে সমগ্ৰ পুজো পরিচালনা করা হয়। পুজো কমিটির সম্পাদক সত্যরঞ্জন বারিক বলেন, আমাদের এই পুজো বহু প্রাচীন। হিন্দুশাস্ত্রের বিধান ও রীতি মেনে পুজো হয়। বলি দেওয়ার প্রচলন নেই। সকলস্তরের মানুষ উৎসাহের সঙ্গে পুজোয় শামিল হন।-নিজস্ব চিত্র