Bartaman Logo
২৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বীরভূমের মুকুটে নতুন পালক, জিআই স্বীকৃতি পেল শান্তিনিকেতনের বাটিক ও একতারা

বীরভূমের শান্তিনিকেতনের বাটিক ও একতারা পেল জিআই স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতি বীরভূমের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন গতি দেবে। বিস্তারিত পড়ুন।

বীরভূমের মুকুটে নতুন পালক, জিআই স্বীকৃতি পেল শান্তিনিকেতনের বাটিক ও একতারা
  • ২৭ জুন, ২০২৬ ২১:৪০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: রাঙামাটির জেলা বীরভূমের লোকশিল্প ও ঐতিহ্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরও দুটি নতুন পালক। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ভৌগোলিক নির্দেশক বা ‘জিআই’ তকমা দেওয়া হলো শান্তিনিকেতনের বিশ্বখ্যাত ‘বাটিক শিল্প’ এবং বাউল সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ‘একতারা’-কে। এই গৌরবময় স্বীকৃতির পর নতুন দুটি অনবদ্য শিল্প যুক্ত হওয়ায় বীরভূম জেলার নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পণ্যের তালিকাটি আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হলো।

Advertisement

শান্তিনিকেতনের বাটিক শিল্পের রয়েছে এক দীর্ঘ ও গৌরবময় ইতিহাস। মোম এবং রঙের নিখুঁত যুগলবন্দিতে কাপড়ের ওপর ফুটিয়ে তোলা অনন্য নকশা দেশ-বিদেশে সমাদৃত। এই শিল্পকে ভৌগোলিক স্বীকৃতি দিয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেখানে ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার মেলবন্ধন ঘটে, সেখানেই বাটিকের সৃষ্টি। এই শিল্প আমাদের ঐতিহ্য ও হাতের কাজের এক অনন্য নিদর্শন। অন্যদিকে, শান্তিনিকেতনের বাউল গানের প্রাণ হলো একতারা। বাউল দর্শনের সহজ-সরল এবং মাটির কাছাকাছি থাকার বার্তা বহনকারী এই একতারাকে ‘এক তারের বিস্ময়’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই স্বীকৃতি স্থানীয় বাউল শিল্পী এবং একতারা তৈরির কারিগরদের বিশ্বমঞ্চে এক নতুন পরিচয় এনে দেবে।

উল্লেখ্য, এই দুটি নতুন শিল্প যুক্ত হওয়ার আগে থেকেই বীরভূম জেলার আরও পাঁচটি ঐতিহ্যবাহী পণ্য ভারত সরকারের এই বিশেষ তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। সেগুলি হলো— শান্তিনিকেতনী চামড়ার সামগ্রী, কোরিয়াল শাড়ি, গরদ শাড়ি, নকশিকাঁথা এবং সুগন্ধি গোবিন্দভোগ চাল। সব মিলিয়ে বীরভূমের মোট সাতটি পণ্য এখন আন্তর্জাতিক মানের ভৌগোলিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। এই জোড়া স্বীকৃতির খবরে খুশির হাওয়া জেলাজুড়ে। স্থানীয় হস্তশিল্পী ও সংস্কৃতিমনস্ক মানুষদের মতে, জেলার  তৈরি বাটিক ও একতারা আরও মর্যাদা পাবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, এই নতুন প্রাপ্তির ফলে জেলার পর্যটন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি এক নতুন গতি পাবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ