Bartaman Logo
৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

মেসি ম্যাজিকে রুদ্ধশ্বাস জয়

মিশরের বিরুদ্ধে পেনাল্টি মিস করলেন মেসি। আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে পিছিয়ে, ম্যাচে দুই তারকার দ্বন্দ্ব। বিস্তারিত পড়ুন।

মেসি ম্যাজিকে রুদ্ধশ্বাস জয়
  • ৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

আর্জেন্তিনা- ৩        :        মিশর- ২

Advertisement

সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়: কায়রোর রাজপথে তখন শুরু হয়ে গিয়েছে উৎসব। তুতানখামেনের উত্তরসূরিরা বিশ্বকাপের শেষ আটে যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর। বিভিন্ন সাইজের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুনে মহম্মদ সালাহর ছবি। প্রবল গর্জনে কান পাতা দায়। কিন্তু ফুটবল দেবতা অন্যরকম ভেবেছিলেন। তাই ফিনিক্স পাখির মতো ম্যাচে ফিরল আর্জেন্তিনা। এমন প্রত্যাবর্তনকে রুদ্ধশ্বাস কিংবা রাজকীয় বিশেষণে মোড়া যেতেই পারে। মেসির নেতৃত্বে মিশরীয় সভ্যতাকে ইতিহাসে চিরস্থায়ী করে বিশ্বকাপের শেষ আটে লায়োনেল স্কালোনি ব্রিগেড। ১৪ মিনিটের ঝড়ে বদলে গেল ম্যাচের চিত্রনাট্য। কায়রোয় তখন স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা, বুয়েনস আইরেসে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে শুধুই মেসি। 
ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্তিনা বড়ই ম্রিয়মাণ। ২১ মিনিটে মেসির স্পটকিক বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রুখলেন মিশরের গোলরক্ষক। অশনি সংকেত দেখা দিল আর্জেন্তিনার গ্যালারিতে। এরপরে লিওর দুরন্ত ফ্রি-কিক আছড়ে পড়ল পোস্টে। কী হবে, কী হবে? শেষ ষোলোতেই কি থামবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা? প্রশ্ন উঁকি মারতে শুরু করেছে ইতিউতি। কারণ, ১৫ মিনিটে ইব্রাহিমের হেড এগিয়ে দিয়েছে মিশরকে (১-০)। ডানদিক থেকে আতিয়ার সেন্টার ভেসে আসে বক্সে। খর্বকায় লিসান্দ্রো মার্তিনেজ মার্ক করতে পারেননি ইব্রাহিমকে। তাই গোল হজম করতে হয় ডিবুকে। এরপর আর্জেন্তিনার আক্রমণ বারবার শেষ কুড়ি গজে খেই হারিয়ে ফেলে। অতিরিক্ত মেসি নির্ভরতাই এই পর্বে স্কালোনি-ব্রিগেডকে আলোর পথ দেখাতে পারেনি। 
হাইড্রেশন ব্রেক, বিরতি...। সময় এগনোর সঙ্গেসঙ্গে আটলান্টা স্টেডিয়ামে মিশর সমর্থকদের গর্জন বাড়ছে। রোজারিও থেকে আসা ডিয়েগো তাঁর ৮ বছরের সন্তান জর্জের চোখের জল মোছাতে ব্যস্ত। নীল-সাদা পতাকাতেও ক্লান্তির ছাপ। বোস্টনের বেস ক্যাম্পে হয়তো মুচকি হাসছেন কিলিয়ান এমবাপে। নেইমার, রোনাল্ডোর পর এবার তাহলে মেসি বিদায়! বিশ্বকাপ যে শুধুই তাঁর। কিন্তু না, এই আর্জেন্তিনার সঙ্গে যে ক্রিকেটের অস্ট্রেলিয়ার বড্ড মিল। হারার আগে হারতে জানে না। প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার দুঃসাহস ধরে। আর সেটাই হল মঙ্গলবার। 
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আর্জেন্তিনা গোলের নেশায় মাতোয়ারা। কাছা খুলে আক্রমণ তৈরি হচ্ছে অহরহ। এই মেজাজই ৬০ মিনিটে বিপদ প্রায় ডেকে এনেছিল। দুরন্ত গতির প্রতি-আক্রমণে ডিবুকে হার মানালেন জিকো। কিন্তু ভারের সহযোগিতায় ফাউলের নির্দেশ দেন রেফারি। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন বিশ্বব্যাপী মেসি অনুরাগীরা। কিন্তু তাসের ঘরের মতো রক্ষণ যে আর্জেন্তিনার। মিনিট সাতেক পরে জাল কাঁপালেন সেই জিকো (২-০)। এবারও কাউন্টার অ্যাটাক। হাপুস নয়নে কান্না শুরু জর্জের। সে ধরেই নিয়েছে, আর্জেন্তিনার জার্সিতে হয়তো এটাই তার নায়কের শেষ ম্যাচ। যে মেসির ছবি থাকে জর্জের বইয়ের ফাঁকে, আলমারির আয়নার পাশে। দু’হাত জড়ো করে সে তখন ঈশ্বর নয়, মেসির কাছেই প্রার্থনা করছে। 
খুদে অনুরাগীর আবদার হয়তো শুনতে পেলেন এলএমটেন। হয়তো নয়। কিন্তু ফিরে আসার লড়াইটা শুরু তাঁর বহুচর্চিত বাঁ পা থেকেই। ঠিকানা লেখা সেন্টারে রোমেরোর হেড খুঁজে নিল জাল (২-১)। বেলঘরিয়া থেকে বুয়েনস আইরেসে তখনই বোনা হল স্বপ্নের জাল। মিনিট চারেক পরেই বক্সের মধ্যে থেকেই ড্রপ ভলিতে সমতা ফেরালেন তিনি (২-২)। এই গোলই লিখে দিল ম্যাচের ভবিষ্যৎ। ভয়ঙ্কর আর্জেন্তিনার সামনে তখন ডেঙ্গু আক্রান্তের মতো কাঁপছে মিশর। বাকিটা পেডিগ্রি। আর্জেন্তিনা আর মিশরের মধ্যে পার্থক্যই লিখে দিল ম্যাচের উপসংহার। সংযোজিত সময়ের তৃতীয় মিনিটে সুপার-সাব লাওতারো মার্তিনেজের ক্রস খুঁজে নিল এনজো ফার্নান্ডেজকে। নিখুঁত হেডে মিশরের গোলরক্ষককে হার মানালেন তিনি (৩-২)। 
শেষ লগ্নে শুধুই মিশরের মেজাজ হারানোর পালা। বিরিয়ানির প্লেট থেকে মাংস সরিয়ে নিলে যা হওয়ার কথা। লাল কার্ড দেখলেন কোচিং স্টাফ। হলুদ কার্ডেরও ছড়াছড়ি। ততক্ষণে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে ঔজ্জ্বল্য বেড়েছে নীল-সাদার। ম্যাচ শেষে মেসিকে শূন্যে ছুড়ে বাকিরা বোঝালেন, এই জয়ের কারিগর তুমি। শুধু তুমি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ