সংবাদদাতা, বসিরহাট: তিনি সক্রিয় তৃণমূল কর্মী ছিলেন না। ফলে হাতে-পায়ে ধরেও মেলেনি বাংলার আবাসের ঘর। মাটির বাড়িতেই দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছিল হাসনাবাদ এলাকার এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও তার পরিবার। কিন্তু বর্তমানে ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতের জেরে বৃহস্পতিবার ভেঙে পড়ল তাঁদের সেই মাটির বাড়িও।
হাসনাবাদ এলাকার বরুণহাটের দিঘির ধারের বাসিন্দা হজরত মোল্লা ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মাটির বাড়িতে বসবাস করেন। বারবার পঞ্চায়েতে বলেও তাঁর ভাগ্যে জোটেনি বাংলার আবাসের ঘর। এদিন সকালে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তাঁর মাটির বাড়িও। কোনোক্রমে প্রাণ বাঁচিয়ে হজরত মোল্লা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাইরে বেরিয়ে আসেন। সামনেই তাঁর ছেলের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। তাঁদের নিত্যদিনের পোশাক, আসবাবপত্র, এমনকী ছেলের পড়ার বই ও ঔষুধ– সবই মাটির তলায় চাপা পড়ে গিয়েছে।
তিনি দুঃখ করে বলেন, স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান ও জনপ্রতিনিধিরা একবার খোঁজখবরও নেননি। আমি তাঁদের হাতে-পায়ে ধরেছিলাম বাংলার আবাস যোজনার একটি ঘর দেওয়ার জন্য। সেই ঘর পাইনি। অথচ নির্বাচনের সময় এই নেতারাই আমার সঙ্গে সেলফি তুলেছিলেন। এ বিষয়ে রামেশ্বরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কালাম গাজির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। বসিরহাটের বিজেপি নেতা পলাশ সরকার ফোনে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে জানলাম। হাসনাবাদ ব্লক প্রশাসনকে অনুরোধ করব, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওই পরিবারের পাশে ত্রাণ নিয়ে দাঁড়াতে। পাশাপাশি দ্রুত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় বই ও খাতার ব্যবস্থা করতে। পরীক্ষার সঙ্গে কোনোরকম ‘কম্প্রোমাইজ’ করা যাবে না। একজন ছাত্রের ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া হবে। নিজস্ব চিত্র