সায়নদীপ ঘোষ: অস্থির সময়। চারিদিকে হিংসা আর অবিশ্বাস। তবে সংগীত এক লহমায় মানুষকে এক সূত্রে গেঁথে দিতে পারে। দ্য ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্সের ৭৪তম বার্ষিক সম্মেলনে তারই সাক্ষী থাকল নজরুল মঞ্চ।
সায়নদীপ ঘোষ: অস্থির সময়। চারিদিকে হিংসা আর অবিশ্বাস। তবে সংগীত এক লহমায় মানুষকে এক সূত্রে গেঁথে দিতে পারে। দ্য ডোভার লেন মিউজিক কনফারেন্সের ৭৪তম বার্ষিক সম্মেলনে তারই সাক্ষী থাকল নজরুল মঞ্চ।
এবছরের অনুষ্ঠান শুরু হয় রুচিরা কেদারের কণ্ঠসংগীত দিয়ে। দক্ষতার সঙ্গে রাগ মারুবেহাগ, বসন্ত পরিবেশন করেন শিল্পী। শেষ করেন একটি দাদরা গেয়ে। চারুকেশির মাধুর্যে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন পণ্ডিত অজয় পোহানকর। শেষে রাগ পাহাড়ি ও একটি ঠুমরী পেশ করেন। ধ্রুপদে নির্মাল্য দে অনবদ্য। তৃতীয় দিনে কণ্ঠের জাদু দিয়ে এক মোহময় পরিবেশ সৃষ্টি করেন উস্তাদ গুলাম আব্বাস খান। রাগ আভোগি ও সোহিনীর পরিবেশন করেন শিল্পী। এছাড়া আরমান খান, স্নিতি মিশ্র, ডঃ সোমা ঘোষ, সুমন ঘোষের পরিবেশনা বেশ ভালো লেগেছে।
নবীন-প্রবীণের সহাবস্থান ডোভার লেনের অন্যতম আকর্ষণ। এবারও তার অন্যথা হয়নি। সেতারে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন পূর্বায়ন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর হাতের ছোঁয়ায় পূর্ণতা পেয়েছে রাগ বসন্ত মুখারি, মিয়া কি টোড়ি, বসন্ত ও ভৈরবী। দীর্ঘদিন পরে ডোভার লেনে অনুষ্ঠান করলেন পণ্ডিত বুধাদিত্য মুখোপাধ্যায়। শুরু করেন রাগ ললিত দিয়ে। পরে রাগ রামকেলি ও ভৈরবী পরিবেশন করেন। তানকারি থেকে লয়কারি-প্রতি মুহূর্তে শ্রোতাদের মন জয় করে নিয়েছেন শিল্পী। সরোদে তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার, সৌগত রায়চৌধুরী, অভিষেক লাহিড়ী ও সিরাজ আলি খান সত্যিই অসাধারণ। সন্তুরে স্বকীয়তার পরিচয় দিয়েছেন অভয় রুস্তম সোপোরি। শেষদিনে রূপক কুলকার্নির বাঁশির সুরে মঞ্চে এক কাব্যময় পরিবেশ তৈরি হয়। শাস্ত্রীয় সংগীতে গুরু-শিষ্য পরম্পরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পণ্ডিত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় ও অনুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের যৌথ তবলা লহরা যেন তারই শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। লয়ের জাদু দিয়ে শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখলেন দুই শিল্পী। সেতার ও তবলার যুগলবন্দিতে নান্দনিকতার ছাপ রেখেছেন নয়ন ঘোষ ও ঈশান ঘোষ। নৃত্যে মীরা সন্তোষ আইয়ার, সুলগ্না ভট্টাচার্য, মীনাক্ষী শেশাদ্রি ও শিঞ্জিনী কুলকার্নির অনুষ্ঠান প্রশংসনীয়।