Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

বাইচুংয়ের কীর্তি স্পর্শ করা গর্বের: এডমুন্ড

বিশাল কাইথকে কাটিয়ে ছোট্ট টোকায় বল জালে ঠেলেই ডাগ-আউটের দিকে দৌড়। কোচ হাবাসকে জড়িয়ে ধরার মুহূর্তে তৃপ্তির ছোঁয়া চোখেমুখে।

বাইচুংয়ের কীর্তি স্পর্শ করা গর্বের: এডমুন্ড
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: বিশাল কাইথকে কাটিয়ে ছোট্ট টোকায় বল জালে ঠেলেই ডাগ-আউটের দিকে দৌড়। কোচ হাবাসকে জড়িয়ে ধরার মুহূর্তে তৃপ্তির ছোঁয়া চোখেমুখে। ততক্ষণে লাল-হলুদ জার্সিতে ইতিহাসে নাম খোদাই করে ফেলেছেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। বাইচুং ভুটিয়ার পর দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল ফুটবলার হিসাবে ডার্বিতে হ্যাটট্রিকের নজির গড়লেন ২৭ বছর বয়সি এই মিজো ফুটবলার। তাঁর দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে দীর্ঘ ২২ বছর পর ঐতিহ্যের ডুরান্ড কাপ ঘরে তুলল মশালবাহিনী। গত বছর আইএসএল ডার্বিতে জাল কাঁপিয়েছিলেন তিনি। তবুও জয় ছিল অধরা। এদিন দুরন্ত হ্যাটট্রিকে যাবতীয় আক্ষেপ মেটালেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই লাল-হলুদ গ্যালারিতে তাঁরই জয়গান। এডমুন্ডও সমর্থকদের ট্রফি উপহার দিতে পেরে তৃপ্ত। বললেন, ‘ডার্বিতে হ্যাটট্রিক যে কোনো ফুটবলারের স্বপ্ন। দারুণ অনুভূতি। তবে তার থেকেও তৃপ্তির দল ট্রফি জেতায়। এই সাফল্য সমর্থকদের উৎসর্গ করছি।’

Advertisement

২০২০ সালে এমনই এক ডার্বিতে লাল-হলুদ জার্সিতে নজর কেড়েছিলেন এডমুন্ড। সেদিন পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নেমেই অ্যাসিস্ট ছিল তাঁর নামের পাশে। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। সেদিন যুবভারতীর হাজার ওয়াটের আলোর মাঝেও তাঁর চোখেমুখে নেমে আসে অন্ধকার। মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করতে হয়। চিকিৎসকরা সাফ বলেছিলেন, ফুটবল আর খেলতে পারবেন না। তবে এডমুন্ড হার মানেননি। ইস্পাতকঠিন মানসিকতার জেরে ১৮ মাসের মধ্যেই মাঠে ফেরেন তিনি। এই পর্বে তাঁর বোন ছিল বড়ো অনুপ্রেরণা। চোট সারিয়ে আই লিগে ইন্টার কাশীর হয়ে দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ফের এডমুন্ডের প্রত্যাবর্তন ঘটে ইস্ট বেঙ্গলে। গতবার আইএসএল জয়ের নেপথ্যে তাঁর অবদান ছিল অনেক। আর এবার তাঁর হাত ধরেই লাল-হলুদ তাঁবুতে এল ডুরান্ড কাপ। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ শেষে সপ্তম সাগরে ভাসছিলেন এডমুন্ড। বললেন, ‘বোনই আমার অনুপ্রেরণার উৎস। সবসময় আমার জন্য প্রার্থনা করে। আজকের ম্যাচের আগেও হ্যাটট্রিকের জন্য আবদার করেছিল। তা পূরণ করতে পেরে আমি তৃপ্ত।’
১৯৯৭ ফেডারেশন কাপের আসরে ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে যুবভারতীতে হ্যাটট্রিক করেছিলেন বাইচুং। প্রায় তিন দশক পর ফের লাল-হলুদ জার্সিতে প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ককে স্পর্শ করলেন এডমুন্ড। এই প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘বাইচুংভাই একজন কিংবদন্তি। তাই তাঁর কৃতিত্বকে স্পর্শ করতে পারাটা গর্বের।’ এদিন অবশ্য বড়ো ম্যাচে এডে চিডির চার গোলের নজিরকে ছোয়ার সুযোগ থাকলেও তা হাতছাড়া হয়। তা নিয়ে অবশ্য কোনো আক্ষেপ নেই এডমুন্ডের। বরং ডুরান্ড কাপের পারফরম্যান্সের সুবাদে আসন্ন ব্রাজিল ম্যাচের জন্য জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ